সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার পরিষদ গঠনে সমান সদস্য চায় বিরোধী দল
জাতীয় সংসদের বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবের পরিবর্তে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষে তাদের সম্মতি প্রকাশ করেছে। তবে, এই সংক্রান্ত কোনো কমিটি গঠন করা হলে সেখানে সরকারি ও বিরোধী দল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য রাখার শর্তারোপ করেছে তারা। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান এই অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্য ভুল উপস্থাপনের অভিযোগ
শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন যে, সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, 'সরকারি দল থেকে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে। আমরা সংকট তৈরি করতে নয়, বরং সমাধান করতে এসেছি। আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন যে, আমরা সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবে একমত হয়েছি। কিন্তু প্রকৃত বিষয়টি হলো, আমরা সংবিধান সংশোধন নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের কথা বলেছি। আমার বক্তব্যে কোনো অস্পষ্টতা ছিল না।'
সমান সদস্য নির্ধারণের গুরুত্ব
বিরোধী দলের নেতা জোর দিয়ে বলেন যে, সংস্কার পরিষদ বা এই ধরনের কোনো কমিটি গঠন করা হলে সেখানে উভয় পক্ষ থেকে সমান সংখ্যক সদস্য থাকতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, সংসদ সদস্যদের আনুপাতিক হারে সদস্য নির্ধারণ করা হলে সেখান থেকে ইতিবাচক কোনো ফলাফল আসার সম্ভাবনা নেই। সমান সদস্য নিশ্চিত করা হলে বিরোধী দল এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পারে বলে তিনি জানান।
আগামী অধিবেশনে বিস্তারিত আলোচনার প্রতিশ্রুতি
সংসদে বিষয়টি স্পষ্ট করার সুযোগ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, 'আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আমি ব্যাখ্যা দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ততক্ষণে অধিবেশনের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যায়। স্পিকার জানিয়েছেন, আগামীকাল এ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। আমরা কালকের অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরব।'
গঠনমূলক ভূমিকা ও শর্তসাপেক্ষ সমর্থন
নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, 'প্রথম দিন থেকেই আমরা বলেছি আমাদের ভূমিকা হবে গঠনমূলক। দেশের ও জাতির স্বার্থে সরকারের যেকোনো ভালো উদ্যোগকে আমরা সমর্থন ও সহযোগিতা দেব। তবে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে বা জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত হলে আমরা অবশ্যই প্রতিবাদ ও প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।'
এই আলোচনায় বিরোধী দল তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে যে, সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে তারা প্রস্তুত, কিন্তু তা হতে হবে ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে। আগামী সংসদ অধিবেশনে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত বিতর্কের আশা করা হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।



