সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহর তীব্র বক্তব্য
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি সংবিধানকে যাঁরা ছুড়ে ফেলতে চান, তাঁদের স্বাধীনতাবিরোধী ট্যাগ দেওয়ার মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে অপমান করা হয়েছে কি না, তা ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
৬৮ শতাংশ সিদ্ধান্তের উল্লেখ
হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ৬৮ শতাংশ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন এই সংবিধানের মৌলিক কোন জায়গায় পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমানের বক্তব্যের জবাবে উল্লেখ করেন, এই সংবিধানের কিছু অংশ সরকার মেনেছে, আবার কিছু অংশ মানেনি।
"মানেনি মানে, যে অংশটা উনাদের পক্ষে গেছে, ওটাই মেনেছেন। যেটা বিপক্ষে গেছে তা মানেননি। উনারা কখনো সাংবিধানিক কখনো অসাংবিধানিক।" তিনি আরও যোগ করেন, এই সংবিধান মানতে গেলে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
খালেদা জিয়া ও সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
হাসনাত আবদুল্লাহ সরকারের দ্বিচারিতা নিয়ে তীব্র ভাষায় প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "গাং পার হলে মাঝি কোন দুলাভাই!"—এই উক্তি দিয়ে তিনি সরকারের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছর সরকার ধানক্ষেতে ঘুমিয়েছে, অথচ আজ লাখ লাখ নেতা-কর্মী রক্ত দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, "ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিটি দলের রক্ত, শ্রম ও ঘামের মধ্য দিয়ে হাসিনার পতন হয়েছে। গণরায় কখনো কেতাবের কাছে মাথা নত করে না। এটা ভ্যাটিক্যান সিটি নয় যে গসপেল অনুযায়ী পরিচালিত হবে।"
সংবিধান সংস্কারের জরুরি দাবি
হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যে সংবিধান সংস্কারের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার সংবিধানের যে জায়গায় সুবিধাভোগী হবে, সেই অংশগুলোই মেনেছে। তিনি ছাত্র-জনতার রায়ের মাধ্যমে বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করার ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেন।
তাঁর মতে, সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি, এবং ৬৮ শতাংশ জনগণের সিদ্ধান্তই এর প্রমাণ। এই আলোচনা জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ অধিবেশনের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।



