মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান মঙ্গলবার সংসদে জানিয়েছেন, 'ফ্যাসিবাদী' সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ও ভাতা বিতরণে সংঘটিত অসঙ্গতি শনাক্ত ও সংশোধনে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, 'আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। আমি সংসদ সদস্যকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমাদের কাজ সম্পন্ন করে শিগগিরই জাতির সামনে এ অসঙ্গতি ও একটি নির্ভুল তালিকা উপস্থাপন করব।'
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীর বক্তব্য
তিনি সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুকের (নোয়াখালী-২) একটি অতিরিক্ত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, তার মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অনেক অভিযোগ পেয়েছে এবং মন্ত্রণালয় এ সমস্যা নিয়ে কাজ করছে।
ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলের বঞ্চনা
আজম খান বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় অনেক মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, 'তাদের মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট স্থগিত করা হয়েছিল এবং অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে নানা ভাবে হয়রানি করা হয়েছিল। এছাড়া তালিকায় অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে অন্তর্ভুক্ত করে ভাতা ও অন্যান্য অবৈধ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।'
সংসদের সেদিনের বৈঠক বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে শুরু হয় এবং স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে যে, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ও ভাতা বিতরণে গত সরকারের আমলে যে অনিয়ম হয়েছে, তা সংশোধনের জন্য বর্তমান সরকার সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা এবং তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, 'আমরা একটি নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে কাজ করছি, যাতে কোনো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বাদ না পড়েন এবং কোনো ভুয়া ব্যক্তি সুবিধা না পায়।'
এদিকে, সংসদ সদস্যরা মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রশংসা করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার রক্ষায় সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, শিগগিরই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ন্যায্য প্রাপ্য পাবেন।



