সরকারি জমি উদ্ধারে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনা গ্রহণ
ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন যে, অবৈধ দখলকৃত সরকারি জমি উদ্ধার এবং উদ্ধারকৃত খাস জমি যোগ্য সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণের জন্য সরকার একটি ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি এই ঘোষণা দেন জাতীয় সংসদের এক অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে।
সংসদে মন্ত্রীর বক্তব্য
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের একটি প্রশ্নের জবাবে ভূমি মন্ত্রী এই তথ্য জানান। মিনু স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, স্বল্পমেয়াদী এই উদ্যোগের পাশাপাশি সরকার ভূমি দখলের সমস্যা টেকসইভাবে মোকাবিলার জন্য মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলও প্রণয়ন করেছে।
কঠোর আইনি পদক্ষেপের প্রয়োগ
সরকারের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দখলকৃত সরকারি জমি মুক্ত করতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৭০ সালের সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জমি ও ভবন (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ, ২০২৩ সালের ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং ২০২৪ সালের ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিধির বাস্তবায়ন।
উদ্ধার কার্যক্রমে তহবিল বরাদ্দ
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, উদ্ধার কার্যক্রম সমর্থন করতে মাঠ পর্যায়ের জেলা প্রশাসকদের জন্য তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়াও, এই উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে সরকারি জমির অবৈধ দখল রোধ ও নিয়মিত বিতরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এই পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দরিদ্র ও ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বণ্টনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ভূমি দখলের মতো জটিল সমস্যা সমাধানে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



