সংসদে শফিকুল ইসলামের বক্তব্য: সংবিধান মানলে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশে থাকার কথা
জাতীয় সংসদে এক আলোচনায় পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ একটি বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সংবিধান যদি সঠিকভাবে মানা হতো, তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে থাকার কথা নয়, বরং দেশের বাইরে থাকার কথা ছিল। এছাড়াও, তিনি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও একই অবস্থানে থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।
সংবিধানের প্রয়োগ নিয়ে তীব্র সমালোচনা
সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমরা সংবিধান নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে, সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারত, তাহলে সেদিন আমাদের বালুর ট্রাক সরানোর জন্য সংবিধানের পৃষ্ঠা খুঁজতে হতো না।' তিনি আরও যোগ করেন, 'সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারত, তাহলে ১৯৭২ সালের সংবিধানের আলোকে আজকে আমাদের এখানে থাকার কথা নয়। আমাদের এই সংসদে নয়, জেলখানায় থাকার কথা।'
তিনি বিগত ১৭ বছরের বৈষম্য ও শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের কার্যকরিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শফিকুল ইসলাম বলেন, 'এখন আমাদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে, কথা বলতে গিয়ে বিগত ১৭ বছরের মতো কোনো একটা বৈষম্যের মধ্যে পড়ে যাচ্ছি কি না? এই সরকার প্রতিষ্ঠার পর শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারে কতটুকু কার্যকরিতা নিয়ে এসেছে, তা জানতে পারিনি।'
গণভোট ও সংবিধান শেখানোর প্রচেষ্টা নিয়ে মন্তব্য
বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন করে গণভোটের ন্যায্যতা-অন্যায্যতা এবং সংবিধান শেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, 'যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিবকে কয়েক হাজার পুলিশের বেষ্টনীর মাঝখানে একা একটা মোবাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, তখন সংবিধান আমাদের রক্ষা করতে পারেনি।'
তিনি গণভোট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'গণভোট নিয়ে আমাদের মাথাব্যথার মূল কারণ হচ্ছে এখানেই, শেখ হাসিনা আমাদেরকে যথার্থ টার্গেটটা করেছিল। সেই টার্গেটের মূল লক্ষ্য ছিলাম আমরা। আমাদেরকে বলা হয়েছিল, একটা গুলি করলে একটা সরে বাকিগুলো সরে না। সেই সরে না লোকগুলো ছিলাম আমরা। যার কারণে আমাদেরকে তারা ভয় পায়।'
সরকারি দলকে সতর্কবার্তা
সরকারি দলের উদ্দেশে শফিকুল ইসলাম বলেন, 'গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে, আমরা আয়নাঘর সমর্থন করতে চাই। গণভোটের বিরোধিতা করা মানে হচ্ছে, ৭০ শতাংশ মানুষকে আমরা অন্যায্যভাবে তাদেরকে ধিক্কার জানাতে চাই।' তিনি স্পষ্ট করে বলেন, 'আপনারা যেমন ৫১ শতাংশ সমর্থন নিয়েছেন, ৭০ শতাংশ প্রায় জনগণ কিন্তু গণভোটের পক্ষে তারা রায় দিয়েছে। আপনাদের চেয়ে সেই ৫১ শতাংশের তুলনায় সেই ৭০ শতাংশ প্রায় গণভোটকে যদি আপনারা অস্বীকার করেন, তাহলে বলব, গোটা বাংলাদেশ আবার জেগে উঠে গণভোট তারা কার্যকর করবে।'
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'মানুষ প্রতারিত হয়েছে, বেইমানি করা হয়েছে। আবার যদি গণভোট, জুলাই সনদ নিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়, তাহলে মূল্য দিতে হবে শুধু নয়, আবার ১৭ বছরের সেই জেল, জুলুম, নিপীড়ন, গুম, খুনের জায়গায় ফিরে যেতে হবে।'
শফিকুল ইসলামের এই বক্তব্য জাতীয় সংসদে একটি বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার মন্তব্যগুলো সংবিধানের প্রয়োগ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।



