জাতীয় সংসদে রুমিন ফারহানার তীব্র প্রশ্ন: মব কালচার বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা চাওয়া
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদে বক্তব্য রাখার সময় তিনি দেশে প্রচলিত মব কালচার বন্ধে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে জানতে চান।
প্রশ্নের শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশংসা
রুমিন ফারহানা তার বক্তব্য শুরু করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রশংসা করে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের কপাল এমন যে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা সব সময়ই থাকে। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, উনি অত্যন্ত দক্ষ, যোগ্য ব্যক্তি। উনি সংবিধান যেমন ভালো জানেন, আমি নিশ্চিত উনি উনার মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারেও অনেক বেশি জানেন।’
এই প্রশংসার পর তিনি সরাসরি মূল ইস্যুতে আসেন। রুমিন ফারহানা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলা গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে নির্যাতনের কালচার এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে গিয়ে পা ভেঙে ফেলা, অসুস্থ করে দেওয়া—এই কালচার ছিল।’
মব কালচারের ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরা
রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ের মব কালচারের ভয়াবহতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় থেকে এই সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
‘২০২৪-এর সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬-এর জানুয়ারি পর্যন্ত আমাদের যেই পরিসংখ্যান, সেটা বলছে যে ২৫০ থেকে ৩০০ এর ওপরে মানুষ নিহত হয়েছে এই মবের খপ্পরে পড়ে।’ এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
নিজের ভুক্তভোগী হওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার
রুমিন ফারহানা আরও বলেন যে তিনি নিজেও এই মব কালচারের একজন ভুক্তভোগী। ‘যেহেতু একটা খারাপ কালচার বাংলাদেশের শুরু হয়েছে এবং আমি নিজেও ২১ ফেব্রুয়ারি সেটার একজন ভুক্তভোগী।’ এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে স্পষ্ট প্রশ্ন রাখেন।
তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ব্যাপারে কী কী পদক্ষেপ নেবেন?’ এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি সরকারের তরফ থেকে দ্রুত ও কার্যকরী ব্যবস্থা আশা করছেন বলে জানান।
সংসদে উত্তপ্ত বিতর্কের সূচনা
রুমিন ফারহানার এই বক্তব্য জাতীয় সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের সূচনা করেছে। তার প্রশ্নটি নিম্নলিখিত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে:
- দেশে মব কালচারের বর্তমান অবস্থা ও এর historical প্রেক্ষাপট
- গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো
- সরকারের নিরাপত্তা নীতির কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব এখনও awaited, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিতে পারে। রুমিন ফারহানার এই সোচ্চার ভূমিকা সংসদে একটি জোরালো বার্তা পাঠিয়েছে যে নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষায় জবাবদিহিতা অত্যন্ত জরুরি।



