রুমিন ফারহানা সংরক্ষিত নারী আসনে জোটবিহীন থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা কোনো রাজনৈতিক জোট বা দলে যোগ দেননি। সোমবার (৩০ মার্চ) নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের চিঠি ও জবাব
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ওই চিঠিতে দলগুলোকে সংরক্ষিত আসনে জোটগতভাবে নাকি স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী দেবে—তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছিল।
ইসির চিঠির জবাবে রুমিন ফারহানা কমিশনকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি এই নির্বাচনে কোনো জোটে যোগ দেবেন না। এর ফলে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে তিনি কেবলমাত্র একজন ভোটার হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। কোনো নির্দিষ্ট জোট বা দলের পক্ষে প্রার্থী মনোনয়নে তিনি যুক্ত থাকবেন না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবিধান ও আইনি প্রক্রিয়া
ইসি কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা করেন যে সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। আইন অনুযায়ী, সংসদে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। যেসব দল বা জোটের সংসদে সদস্য সংখ্যা বেশি, তারা আনুপাতিক হারে বেশি সংরক্ষিত আসন পেয়ে থাকে।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশন সেই আনুপাতিক হার নির্ধারণ এবং ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা চাইলে কোনো জোটে যোগ দিয়ে তাদের ভোট ওই জোটের অনুকূলে দিতে পারেন, যা জোটের আসন সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
রুমিন ফারহানা সেই সুযোগ না নিয়ে স্বতন্ত্র অবস্থানে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এই সিদ্ধান্ত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।



