ঈদযাত্রায় প্রাণহানি নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদে তীব্র সমালোচনা
পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী ফিরতি যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের দেওয়া 'স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা' বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা সাইফুল আলম। সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি কঠোর প্রশ্ন তোলেন, 'আর কত লোক মারা গেলে তিনি (সড়ক মন্ত্রী) অস্বস্তিবোধ করবেন?'
বাস্তব চিত্র ও মন্ত্রীর বক্তব্যের বৈপরীত্য
সংসদ সদস্য সাইফুল আলম বলেন, গত রোববার সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ঈদযাত্রা নিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেখানে তিনি দাবি করেছেন এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং উদ্বেগজনক। বিআরটিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী এবারের ঈদযাত্রায় ১৭০ জন এবং যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসেবে ৩৭০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি দৌলতদিয়ায় আস্ত বাস পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটেছে। এত মানুষের মৃত্যুর পরও মন্ত্রী কীভাবে একে 'স্বস্তির যাত্রা' বলেন, তা নিয়ে তিনি গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেন।
ক্ষতিপূরণ ও মন্ত্রীর দায়িত্বহীনতা নিয়ে প্রশ্ন
নিহতদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, দৌলতদিয়ায় এত বড় দুর্ঘটনার পর সড়ক মন্ত্রী সেখানে যাননি, যা দায়িত্বহীনতার পরিচয়। অথচ নিহতদের জীবনের মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা, যা অত্যন্ত অপ্রতুল। তিনি ব্রিটিশ সংসদীয় রীতির উদাহরণ টেনে বলেন, 'ব্রিটেনের মতো দেশ হলে এমন ঘটনার পর সড়ক মন্ত্রী এতক্ষণে পদত্যাগ করতেন। তিনি পদত্যাগের চিন্তা করবেন কি না, তা আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।'
অন্যান্য সংসদ সদস্যদের বক্তব্য ও বিতর্ক
একই অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর আরেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী মন্ত্রীদের বক্তব্যের বৈচিত্র্য ও কার্যপ্রণালী নিয়ে কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে অনেক সময় বৈপরীত্য দেখা যায়, যা জনগণের বিভ্রান্তির কারণ। যার যে বিষয়ে উত্তর দেওয়ার কথা, তাকে সেই বিষয়ে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
তবে শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অপ্রয়োজনীয়। বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যরা অত্যন্ত যোগ্য এবং তাদের মধ্যে কোনো নীতিগত পার্থক্য নেই, যা সরকারের কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।
অধিবেশনের অন্যান্য আলোচনা
অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বেও সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্ত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্পিকারের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া এই অধিবেশনে ঈদ পরবর্তী সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়াও রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়, যা দেশের পরিবহন খাতের সংকটকে তুলে ধরে।



