জাতীয় সংসদে জামায়াত নেতার সংবিধান নিয়ে তীব্র বক্তব্য
জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম সংবিধানের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। আজ সোমবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ সব মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধান যদি মানতে হতো তাহলে প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে থাকার কথা নয়, দেশের বাইরে থাকার কথা। সংবিধান মানতে হলে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এখন দেশের বাইরে থাকার কথা ছিল।’ তিনি বিগত ১৭ বছরের বৈষম্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সরকার প্রতিষ্ঠার পর শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারে কার্যকরিতা নিয়ে স্পষ্টতা নেই।
গণভোট ও সংবিধানের ভূমিকা নিয়ে তিক্ত অভিযোগ
গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রশ্নে সরকারি দলের অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সংবিধান নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে… সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারত, তাহলে সেদিন আমাদের বালুর ট্রাক সরানোর জন্য সংবিধানের পৃষ্ঠা খুঁজতে হতো।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারত, তাহলে ’৭২–এর সংবিধানের আলোকে আজকে আমাদের এখানে থাকার কথা না। আমাদের এই সংসদে নয়, জেলখানায় থাকার কথা।’
শিক্ষার্থী আন্দোলন ও সরকারি দলের ভূমিকা
তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে সরকারি দলের দ্বিচারিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সংবিধান মানতে হলে যে বাচ্চাদের আজকে এখানে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, দীক্ষা দেওয়া হচ্ছে কিংবা তাদেরকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাসদের সাথে তুলনা করা হচ্ছে, সেই বাচ্চাদের নিয়ে এই সরকার দলের লোকদেরকে, সরকার দলের সম্মানিত নেতৃবৃন্দকে আমরা চোখের পানিও ফেলতে দেখেছি।’ আবার কেউ কেউ বলেছেন যে এই আন্দোলনের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন।
গণভোট নিয়ে হুঁশিয়ারি ও ভবিষ্যতের শঙ্কা
শফিকুল ইসলাম গণভোটের ন্যায্যতা-অন্যায্যতা নিয়ে নতুন করে সংবিধান শেখানোর চেষ্টার কথা বলেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিবের ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিবকে কয়েক হাজার পুলিশের বেষ্টনীর মাঝখানে একা একটা মোবাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, তখন সংবিধান আমাদের রক্ষা করতে পারেনি।’
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘গণভোট নিয়ে আমাদের মাথাব্যথার মূল কারণ হচ্ছে এখানেই, শেখ হাসিনা আমাদেরকে যথার্থ টার্গেটটা করেছিল। সেই টার্গেটের মূল লক্ষ্য ছিলাম আমরা।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে যোগ করেন, ‘আবার যদি গণভোট, জুলাই সনদ নিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করা হয়, তাহলে মূল্য দিতে হবে শুধু নয়, আবার ১৭ বছরের সেই জেল, জুলুম, নিপীড়ন, গুম, খুনের জায়গায় ফিরে যেতে হবে।’
সরকারি দলকে চ্যালেঞ্জ ও জনসমর্থনের দাবি
সরকারি দলের উদ্দেশে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে, আমরা আয়নাঘর সমর্থন করতে চাই। গণভোটের বিরোধিতা করা মানে হচ্ছে, ৭০ শতাংশ মানুষকে আমরা অন্যায্যভাবে তাদেরকে ধিক্কার জানাতে চাই।’ তিনি দাবি করেন, ‘আপনারা যেমন ৫১ শতাংশ সমর্থন নিয়েছেন, ৭০ শতাংশ প্রায় জনগণ কিন্তু গণভোটের পক্ষে তারা রায় দিয়েছে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি গণভোট অস্বীকার করা হয়, তাহলে গোটা বাংলাদেশ জেগে উঠে তা কার্যকর করবে।
সরকারি দলের প্রতিক্রিয়া ও অন্যান্য বক্তব্য
এদিকে, একই আলোচনায় সরকারি দলের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল বলেন, রমজান ও ঈদ উৎসবের সময় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হয়নি, যা গত ৫৫ বছরে দেখা যায়নি। তিনি দাবি করেন, এবারই প্রথম তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রেখেছে এবং বিশ্ব বাজারে তেলের পরিস্থিতি সত্ত্বেও দাম বাড়ায়নি।
সরকারি দলের আরেক সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নকে ‘ছেলেভোলানো গল্প’ বলে অভিহিত করেন এবং গ্রাম এলাকায় উন্নয়নের অভাবের অভিযোগ তোলেন। এনসিপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার ঘোষণা দেন, কিন্তু নির্বাচনী এলাকায় সংসদ সদস্যদের জন্য কার্যালয়ের ব্যবস্থা চান।



