জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য: জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীরা অপরাধী
সোমবার জাতীয় সংসদে আলাদা দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে যারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে, তারা যে বাহিনীর পোশাকেই হোক, তারা অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা হবে।
জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও মামলা তদন্তের অঙ্গীকার
বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে, জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে, সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে যারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে, সেটা যে বাহিনীর ড্রেসেই হোক এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, যুবলীগ, ছাত্রলীগ যারা যে বাহিনীর ড্রেসই পরুক, তারা সবাই অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। না হলে আপনারা দায়ের করবেন এবং সকল মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। বিচার করার দায়িত্ব বিচার বিভাগের।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে সরকার 'জুলাই জাতীয় সনদে' অঙ্গীকারবদ্ধ। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষায় অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যা সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এই অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে।
পুলিশের হত্যাকাণ্ড ও সরকারের ভূমিকা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট মামলা করা হয়েছে। কিছু মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এবং কিছু সাধারণ পেনাল কোডের অধীন আদালতে আছে। সেগুলোর তদন্ত হচ্ছে, কিছু চার্জশিটও হয়েছে। তিনি বলেন, 'আদালত স্বাধীনভাবে তার বিচার পরিচালনা করবে, সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। দেশের সব গুম, খুন, হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যার বিচার হবেই।'
মামলা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া
বিএনপির সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কিছু রাজনৈতিক ও গায়েবি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। বিএনপি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কাজ হিসেবে কিছু মামলা প্রত্যাহার করে। তিনি বলেন, '২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যেসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল, সেই মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে এবং আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটির পরামর্শ অনুসারে মামলা প্রত্যাহার করা হবে।'
'মব কালচার' ও সড়ক অবরোধ নিয়ে সতর্কতা
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মবের পরিসংখ্যান তাঁর কাছে নেই, তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মবের মতো ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে কোনো রকম মব কালচার আর থাকবে না। রাস্তায় কোনো দাবি নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে দাবি আদায়ের প্রবণতা আর অনুমোদন করা হবে না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দাবি জানানো যাবে, কিন্তু সড়ক অবরোধ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।'
পুলিশের বাজেট ও দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ
এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে আরও বেশি কর্মক্ষম ও দুর্নীতিমুক্ত রাখার জন্য যথাযথ বাজেট দেওয়ার বিষয়ে তিনি আগামী অধিবেশনে প্রস্তাব রাখবেন। তিনি স্বীকার করেন, পুলিশের প্রয়োজনীয় বাজেট দিতে দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি সক্ষম নাও হতে পারে, তবে সরকার একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পুলিশ ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়, যাতে পুলিশ 'ম্যানেজ করার কালচার' থেকে বেরিয়ে আসে।



