সংবিধান সংস্কার নোটিশ নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি অধিবেশনে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদে নোটিশ দিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এই নোটিশের ওপর কখন আলোচনা হবে তা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে তীব্র বিতর্ক হয়েছে।
বিরোধী দলের দাবি বিশেষ অধিবেশন
পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের (আদেশ নং ১) অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি জানান। তিনি একইসঙ্গে আজকের অধিবেশনে ৭১ বিধি ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা স্থগিত রেখে সংবিধান সংস্কার নিয়ে অবিলম্বে আলোচনার দাবি তোলেন।
ড. শফিকুর রহমান নোটিশটি সংসদে উত্থাপন করে বলেন, "১৫ মার্চ আমি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে একটি অতি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেছিলাম। স্পিকার পরামর্শ দিয়েছিলেন নোটিশ আনার জন্য। আমরা সেটা করেছি। আমি এই নোটিশ সংসদে উত্থাপন করলাম এবং নোটিশটি গ্রহণ করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিষয়ে আলোচনার দাবি জানালাম।"
সরকারি দলের অবস্থান
সরকারি দল জানায়, দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথমে প্রশ্নোত্তর পর্ব ও জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশ নিয়ে আলোচনা শেষ করতে হবে। এরপর অন্য কোনো নোটিশ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, বিধি অনুযায়ী জরুরি নোটিশের ওপর আলোচনা শেষ হওয়ার পর বিরোধী দলের নোটিশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, "সংসদের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে সবাই ভুলে যাচ্ছে কীভাবে এই সংসদ গঠিত হয়েছে। কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে গণভোট হয়নি। এটি সবচেয়ে বেশি জনগুরুত্বপূর্ণ, এ সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত, এর সুরাহা হওয়া উচিত। তারপর নিয়মিত সব কার্যক্রম হওয়া উচিত।"
তিনি আরও বলেন, "বিরোধীদলীয় নেতা বিধি মোতাবেকই নোটিশ দিয়েছেন। সেটা নিয়ে আগে আলোচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। স্পিকার চাইলে অনুমতি দিতে পারেন। কিন্তু প্রশ্নোত্তর ও ৭১ বিধি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এগুলো সংসদ সদস্যদের অধিকার। এ দুটি কার্যসূচির জন্য ২ ঘণ্টা বরাদ্দ। এরপর অন্য সব বিষয়ে আলোচনা আসতে পারে। তাদের দিক থেকে অসুবিধা নেই।"
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন বিলম্ব
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যদের একই দিনে দুটি শপথ নেওয়ার কথা—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, তবে বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, "বিরোধী দলের নোটিশ তিনি গ্রহণ করেছেন এবং সংসদের রীতি অনুযায়ী বিধি-৭১–এর নোটিশ আলোচনা শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।" এই অবস্থানে সংসদ অধিবেশন চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত হয় তা নিয়ে সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ।



