রাষ্ট্রীয় প্রটোকল উপেক্ষা করে কবরে নেমে লাশ দাফনে তথ্য প্রতিমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী একটি অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শুক্রবার বিকালে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন শেষে ফেরার পথে তিনি সড়কের পাশে একটি কবরস্থানে লাশ দাফন কাজ চলতে দেখে গাড়ি থামান।
হঠাৎ থামানো গাড়ি ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ
প্রতিমন্ত্রীর গাড়িবহর হঠাৎ থেমে যায় যখন তার নজরে আসে সড়কের পাশেই একটি কবরস্থানে এক ব্যক্তির লাশ দাফন করা হচ্ছে। কোনো প্রকার দ্বিধা বা সংকোচ না করে তিনি সরাসরি গাড়ি থেকে নেমে কবরস্থানের দিকে এগিয়ে যান। সরকারি প্রটোকল সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে তিনি নিজেই কবরে নেমে পড়েন এবং লাশ খাটিয়া থেকে নামিয়ে কবরে শায়িত করার কাজে সরাসরি অংশ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শী নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. এনামুল কাদির বলেন, "একজন মন্ত্রীকে এভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দাফন কাজে অংশ নিতে দেখে আমরা অভিভূত হই। তিনি কোনো প্রকার বিলম্ব না করে সোজা কবরস্থানে চলে গিয়েছিলেন।"
স্থানীয় নেতা ও বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন এই ঘটনাকে কল্পনাতীত বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে সাধারণ মানুষের লাশের খাটিয়া ধরবেন এবং কবরে নেমে দাফন করবেন—এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। তার সাদামাটা জীবনযাপন ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আমাদের গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে।"
জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনাকে বর্তমান সময়ের একটি বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, পদের অহংকার ভুলে মাটির মানুষের কাছে ফিরে আসার এই চিত্র সমাজের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয়। একজন জনপ্রতিনিধির এমন মানবিক আচরণ অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে বলে তারা মনে করেন।
সামাজিক মাধ্যম ও প্রশংসা
প্রতিমন্ত্রীর এই মানবিক কাজের ছবি ও সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন। দাফন কাজ শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় উপস্থিত সবার সঙ্গে মোনাজাতেও অংশ নেন ইয়াসের খান চৌধুরী। এরপর তিনি তার গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।
এই ঘটনা নান্দাইল উপজেলার ১২নং জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে ঘটেছে, যেখানে প্রতিমন্ত্রী দুটি উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন শেষে উপজেলা সদরে ফিরছিলেন। তার এই স্বতঃস্ফূর্ত মানবিক সাড়া স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের মধ্যে একতা ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।



