এনসিপি নেতার বিএনপির গণভোট রায় অস্বীকারের তীব্র সমালোচনা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বিএনপিকে সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোটের রায় অস্বীকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই পদক্ষেপ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এতে রাজনৈতিক আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।
নারায়ণগঞ্জে সাধারণ সভায় বক্তব্য
গত শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় জাতীয় নাগরিক পার্টির নারায়ণগঞ্জ মহানগরের প্রথম সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যের শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। মহানগরের আহ্বায়ক শওকত আলীর সভাপতিত্বে এই সভায় বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ্ আল আমিন।
গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান
নাহিদ ইসলাম জানান, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে এবং বিএনপি নিজেও এই নির্বাচনে গণভোটে অংশগ্রহণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপির দলীয় প্রধান গণভোটের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন, কিন্তু এখন সংবিধানের দোহাই দিয়ে তারা গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছেন।
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে একজন ইউএনও বিতর্কের মধ্যে পড়লেন, তাঁকে বদলি করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষক শেখ মুজিবুর রহমানকে বলা আছে। জিয়াউর রহমানকে সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষক বলতে পারেন না। সংবিধানের ইচ্ছা কোথাও মানছেন, আবার কোথাও মানছেন না—এই দ্বিচারিতা জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।’
রাজনৈতিক আস্থার সংকটের সতর্কতা
দ্রুত গণভোটের রায় মেনে নিয়ে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ তৈরি করে সব সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যদি এর ব্যতয় ঘটে এবং তারা সাংবিধানিক দোহাই দেয়, তাহলে এটা জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হবে না। এটা রাজনৈতিক আস্থার সংকট তৈরি করবে। তখন এই জিনিস রাজপথে গড়াবে। এটা যাতে রাজপথে না গড়ায়, সংসদে সমাধান হয়, এটার দায়িত্ব সরকারি দলকে নিতে হবে, যেহেতু তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আছে।’
দ্বিচারিতা ও সংবিধান ব্যাখ্যার সমালোচনা
সরকারি দলে যাঁরা আছেন, তাঁরা গণরায় মানছেন না মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তারা (বিএনপি) সংবিধানকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করছে, তাদের পক্ষে গেলে তারা সংবিধানের পক্ষে আছে, তাদের বিপক্ষে গেলে তারা সংবিধানের পক্ষে নেই।’ তিনি বলেন, ‘এই দ্বিচারিতা ও সংবিধানকে নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করার রাজনীতি আমরা কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ আমলে দেখেছি। আওয়ামী লীগ একইভাবে সংসদকে কবজা করে সংবিধানকে দলীয়করণ করেছে। সংবিধানকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করেছে। সেই একই কাজ এখন সরকারি দল তাদের মধ্যেও দেখতে পাচ্ছি। সেই প্রবণতা যদি থাকে জনগণ তাদের রায় আবারও রাজপথের মাধ্যমে জানান দেবে। আমাদের সংগ্রাম সংসদ ও রাজপথ—সব জায়গায় থাকবে।’
নারায়ণগঞ্জের অতীত পরিস্থিতি তুলে ধরা
আওয়ামী লীগের সময়ের নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে নারায়ণগঞ্জ মাফিয়া এলাকা হিসেবেই রাজনীতিতে পরিচিত ছিল। এখানকার রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করত এখানকার গডফাদাররা। সেই মাফিয়া গডফাদাররা ৫ আগস্ট গণ–অভুত্থ্যানে পরাজিত হয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত হতে বাধ্য হয়েছে। এখানে নতুন করে যাতে কোনো গডফাদার তৈরি না হয়।’
এই সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা আহ্বায়ক জুবায়ের সরকার, সদস্যসচিব জোবায়ের হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নীরব রায়হান, মহানগরের সদস্যসচিব আশিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ আলম প্রমুখ।



