মিরপুরে সাবেক ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসাইনের ওপর হামলা
রাজধানীর মিরপুর থানা এলাকায় সাবেক ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসাইনকে মারধর করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে মিরপুরের শাহ আলীবাগে এ হামলা সংঘটিত হয়। ইমরান হোসাইন অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় তাঁকে টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
ইমরান হোসাইন ঘটনাস্থল থেকে মুঠোফোনে জানান, রাত ৯টার দিকে মিরপুর থানার শাহ আলীবাগ বউবাজার ৩ নম্বর রোডে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করে রক্তাক্ত করে ফেলে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলেও তাঁর সঙ্গে কথা না বলে হামলাকারীদের সঙ্গে গল্প করছে। নিরাপত্তার অভাবে তিনি হাসপাতালে যেতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইমরানের রাজনৈতিক পটভূমি
ইমরান হোসাইন মিরপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর হয়ে কাজ করার কারণে তাঁকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ইমরান দাবি করেন, এই বহিষ্কারের ধারাবাহিকতায় সুমন হোসেন ওরফে কাটিং সুমনের নেতৃত্বে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সুমন হোসেন বলেন, ইমরানের বাসা শাহ আলীবাগের ধানখেত মোড়ে, অন্যদিকে তাঁর বাসা শাহ আলীবাগের বউবাজারে। তিনি দাবি করেন, রাতে তাঁর ভাগনেকে ইমরানের লোকজন মারধর করছিল, যার জবাবে তাঁর ভাগনের লোকজন ইমরানের ওপর হামলা চালায়। সুমন আরও বলেন, তাঁর ভাগনে স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি ইমরানকে মারধর করেননি। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইমরানের বাসা ধানখেত মোড়ে হলে তিনি কেন বউবাজার এলাকায় এসেছিলেন?
পুলিশের প্রতিক্রিয়া
এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার জানান, তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন। তবে ইমরানের অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ এখনও যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে মনে হচ্ছে।
পরিস্থিতির মূল্যায়ন
এই ঘটনা রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ইমরান হোসাইনের মতো সাবেক ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইঙ্গিত দিতে পারে। পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আশা করা যায়, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



