ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুমিন ফারহানার দৃঢ় অবস্থান: বাউলগান ও মাজার সংস্কৃতি রক্ষায় অঙ্গীকার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তার নিজ এলাকায় বাউলগান ও মাজার–সংস্কৃতির ওপর কোনো বাধা মেনে নেওয়া হবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দগরীসার মোড়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন।
আধ্যাত্মিক সাধকের স্মরণোৎসবে বক্তব্য
আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ আবদুল কাদির শাহ (রহ.)-এর ৫৮তম স্মরণোৎসব ও বার্ষিক ওরসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রুমিন ফারহানা বলেন, 'আমি যত দিন এই এলাকার দায়িত্বে থাকব, আমার এলাকায় ওয়াজ যেমন হবে, কীর্তন যেমন হবে, বাউলগানও হবে।' তিনি বাংলাদেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি লালন-পালন করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেন।
গত ১৮ মাসের ঘটনাবলির প্রতিবাদ
স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য গত ১৮ মাস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে একের পর এক মাজার ভাঙার ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই সময়ে বাউলগানের আসরে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং বাউলশিল্পীদের হেনস্তা করে জেলে দেওয়া হয়েছে। রুমিন ফারহানা আরও যোগ করেন, 'আমি জানি না, আর কোনো রাজনীতিবিদ প্রতিবাদ করেছেন কি না। তবে আমি সংখ্যা ধরে ধরে প্রতিটা মাজার ভাঙার প্রতিবাদ জানিয়েছি। ঈদুল ফিতরের এক দিন পরও সিলেটে এ রকম বাউলগানের আসরে ভাঙচুর করা হয়েছে।'
সংস্কৃতি রক্ষায় নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব
রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, 'বাংলাদেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি লালন-পালন করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদের। এসব নতুন প্রজন্মকে জানানোর দায়িত্বও আমাদের। যাঁরা বাউলগান ও মাজারের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা আমাদের সংস্কৃতির অংশ।' তিনি এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও আধ্যাত্মিক অনুশীলনগুলোর গুরুত্বকে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সভাপতিত্ব
এই স্মরণোৎসবের আয়োজন করে আবদুল কাদির শাহ পাঠাগার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাঠাগারের উপদেষ্টা আতাউর রহমান। স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছে।



