বগুড়া-২ আসনের সাবেক এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহকে ঢাকায় গ্রেফতার
বগুড়ার সাবেক এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ গ্রেফতার

বগুড়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহকে ঢাকায় গ্রেফতার

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহকে (৭৬) গ্রেফতার করা হয়েছে। বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি দল শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার রমনা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতাউর রহমান একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারের পটভূমি ও রাজনৈতিক পরিচয়

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থান এলাকার মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে। জিন্নাহ বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের শরীক জাতীয় পার্টি থেকে গত ২০১৮ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এরপর ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনি একই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পলাতক অবস্থায় অংশগ্রহণ করেন। মামলা থাকার কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। আপিলে মনোনয়ন ফিরে পেলেও নির্বাচনি পরিবেশ না থাকার অজুহাতে তিনি নির্বাচন থেকে সরে আসেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেফতারের প্রক্রিয়া ও মামলার বিবরণ

বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি দল তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার রমনা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি ছিল।

তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বগুড়ার বিভিন্ন থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের কয়েকটি ধারায় মোট ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনে তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা চলমান আছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালত ও পরবর্তী পদক্ষেপ

বগুড়া ডিবি পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি মামলার আসামি সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হবে। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই গ্রেফতারের ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষত জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে এবং বগুড়া-২ আসনের নির্বাচনী ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে। পুলিশের তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।