জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে মহান স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত
রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আড়াই ঘণ্টার বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে দুপুর ১২টার দিকে এই আয়োজন শেষ হয়, যা দেশের স্বাধীনতার গৌরবময় ইতিহাসকে স্মরণ করে একটি উল্লেখযোগ্য জাতীয় অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ও সালাম গ্রহণ
অনুষ্ঠানের শুরুতে কুচকাওয়াজের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে সালাম গ্রহণ করেন, যা স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত। সকাল ১০টার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে উপস্থিত হলে, তাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাগত জানান। এরপর রাষ্ট্রপতি সালাম গ্রহণ করেন এবং জাতীয় সংগীত বাজানো হয়, যার সময় দর্শনার্থীরা দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাষ্ট্রপতি খোলা জিপে করে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং মার্চপাস্ট শুরু হয়। পরিদর্শনের সময় ‘বল বীর বল উন্নত মম শীর’সহ বিভিন্ন কবিতা আবৃত্তি ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো হয়, যা অনুষ্ঠানে একটি সাংস্কৃতিক মাত্রা যোগ করে। সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ শেষ করার অনুমতি দেন এবং মার্চপাস্টের সূচনা হয়।
প্যারাস্যুট ও আকাশে বিমান প্রদর্শন
সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে আকাশ থেকে প্যারাস্যুট দিয়ে প্যারাট্রুপাররা নামতে শুরু করেন, যারা জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন পতাকা নিয়ে মাটিতে অবতরণ করেন। এরপর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি ও র্যাবের হেলিকপ্টার ও বিমান জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের আকাশে উড়তে থাকে, যা দর্শকদের জন্য একটি চমকপ্রদ দৃশ্য তৈরি করে।
বেলা ১১টা ১০ মিনিটে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমরাস্ত্র ও সরঞ্জাম প্রদর্শন শুরু হয়। সেনাবাহিনীর ট্যাংক, এপিসি, এন্টি–ট্যাংক ওয়েপন, ড্রোন, এবং নৌবাহিনীর শত্রু জাহাজ–বিমান অনুসন্ধানী রাডার, বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রভৃতি প্রদর্শিত হয়। নিজস্ব প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত ড্রোনসহ বিমানবাহিনীর সমরাস্ত্রও প্রদর্শন করা হয়, যা দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার উন্নতি প্রতিফলিত করে।
ফ্লাই পাস্ট ও সমাপনী
বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও বিমানের প্রদর্শন শুরু হয়। জাতীয় পতাকা, সেনাবাহিনীর পতাকা, নৌবাহিনীর পতাকা ও বিমানবাহিনীর পতাকা নিয়ে চারটি হেলিকপ্টার উড়ে যায়, এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে হেলিকপ্টার যাওয়ার সময় দর্শনার্থীরা দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান। একপর্যায়ে পাঁচটি বিমান লাল, নীল ও সবুজ রং ছড়িয়ে আকাশ রঙিন করে তোলে, এবং বিকট শব্দে যুদ্ধবিমান চক্কর দিতে থাকে। বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে ফ্লাই পাস্ট শেষ হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দুপুর ১২টার দিকে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়। এই আয়োজন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়, যা সকলের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত।



