মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ঐতিহাসিক প্রভাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ভোর ৬টায় তারা জাতীয় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
নীরবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা ও রাষ্ট্রীয় অভিবাদন
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে বীর শহীদদের স্মরণ করেন, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্মান জানানোর একটি গভীর মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। এ সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়, যা দিবসটির গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রী পরিষদ সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, যা সরকারের সর্বস্তরের প্রতিনিধিত্বমূলক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত।
প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য কর্মসূচি ও বাণী
সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা ফেরার পথে সকাল ৭টার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে 'কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে' রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন, যা স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করবে।
এদিকে, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর জন্য একটি বাণী প্রদান করেছেন। বাণীতে তিনি বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে উল্লেখ করেন, "২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন।" তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের স্মরণ করেন, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিতা মা, বোন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সবাইকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং সব শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানটি স্বাধীনতা দিবসের কেন্দ্রীয় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়, যা জাতীয় ঐক্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি দিবসটির গুরুত্বকে আরও বৃদ্ধি করেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যায়।



