এলডিপি চেয়ারম্যানের দাবি: 'আমি বিদ্রোহ না করলে জিয়াউর রহমানকে মেরে ফেলা হতো'
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দাবি করেছেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনালগ্নে তিনি বিদ্রোহ না করলে জিয়াউর রহমানকে মেরে কর্ণফুলীতে ফেলে দেওয়া হতো। বুধবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।
শফিকুর রহমানের বক্তব্যের ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছিলেন, একাত্তরে চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছিল এবং অলি আহমদ সবার আগে 'উই রিভল্ট' বলেছিলেন। এই বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার জবাবে অলি আহমদ বলেন, 'জামায়াত আমির বলেছিলেন, "উই রিভল্ট" কর্নেল অলি বলেছিল। এটা নিয়ে অনেকের গায়ে জ্বলন ধরেছিল। জিয়াউর রহমান নিজেই এসিআরে (অ্যানুয়াল কনফিডেনশিয়াল রিপোর্ট) এ বিষয়ে বলে গিয়েছিলেন।'
তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে আরও বলেন, 'তোমাদের গাত্রদাহ কেন হচ্ছে। এই ডকুমেন্টগুলো তো আর্কাইভ করা আছে। একদম যদি ইংরেজি লেখাপড়া করতে না জানো, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ইংলিশের প্রফেসরকে নিয়ে যাও এগুলো পড়ার জন্য। অসুবিধাটা কোথায়? আর যদি ওখানে অসুবিধা হয়, আমার ঘরে আসো অরিজিনাল এসিআর তো আমি রেখে দিছি। আমি তো ও রকম বোকা লোক না। আমি যখন চাকরি ছেড়েছি, অরিজিনাল এসিআরগুলো আমি সাথে নিয়ে আসছি। আমার ঘরে আসো, বিনা পয়সায় দেখায়া দেব। সুতরাং আমিরকে (শফিকুর রহমান) টিটকারি না মেরে এটা গ্রহণ করো। সত্যকে গ্রহণ করা একজন মানুষের কাজ। এটা অস্বীকার করে বেশি দিন টিকতে পারবে না।'
মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক মন্তব্য
মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পার হলেও জিয়াউর রহমানের শাসনামল ছাড়া অন্য কোনো শাসনকালে দলীয়করণ বন্ধ ছিল না বলে মন্তব্য করেন অলি আহমদ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংস্কার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনার বাপ (জিয়াউর রহমান) পুরো পৃথিবীতে প্রসিদ্ধ হয়েছিল স্বাধীনতা ঘোষণা করে, আপনার মা (খালেদা জিয়া) প্রসিদ্ধ হয়েছিল সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করে। সুতরাং আপনিও প্রসিদ্ধ হয়ে যান সংস্কারগুলো করে। ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান।'
সভায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে অলি আহমদ আরও বলেন, 'সুযোগ আসে না। চাটুকারের অভাব নাই। আপনাকে ভিন্ন পথে পরিচালনা করার জন্য অনেক লোক থাকবে। শেষ পর্যন্ত আপনাকে কাঁধে সেই বোঝা বহন করতে হবে। দোষ করবে মন্ত্রী, কিন্তু বোঝা উঠাইতে হবে আপনাকেই। তো আপনি কেন বোঝা উঠাবেন?'
সভায় উপস্থিতি
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সবুর ফকির। সঞ্চালক ছিলেন দলের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আরও বক্তব্য দেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), মোবারক হোসাইন, কর্মপরিষদ সদস্য জসীমউদ্দিন সরকার, হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য কামাল হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।



