বিশেষ কমিটিতে ২০ অধ্যাদেশে এখনো ঐকমত্য হয়নি, গণভোট বাতিলের প্রস্তাবে জামায়াতের তীব্র আপত্তি
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটিতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ২০টির বিষয়ে এখনো একমত হতে পারেনি কমিটির সদস্যরা। আজ বুধবার সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির মুলতবি বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বৈঠক শেষে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে, এই ২০টি বিষয়ের মধ্যে গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা তারা মানতে নারাজ।
গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবে জামায়াতের প্রতিক্রিয়া
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘গণভোট বিল আনছেন ওনারা এটা রহিতকরণের জন্য। আমরা এতে একমত হওয়ার প্রশ্নই আসে না।’ তিনি আরো উল্লেখ করেন, গণভোটে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের রায় ঘোষণা করেছে, তাই এটাকে অস্বীকার করা গণবিরোধী কাজ হবে। জামায়াতের নায়েবে আমির সংসদ সদস্য মজিবুর রহমানও একই সুরে বলেন, গণভোটের রায় অবশ্যই মানতে হবে এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।
কমিটির সভাপতির বক্তব্য
বিশেষ কমিটির সভাপতি ও সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন অবশ্য বলেছেন, তাঁরা গণভোট অধ্যাদেশ রহিত করার প্রস্তাব করেননি, রাখার প্রস্তাবও করেননি। তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যেহেতু বিরোধী দল উত্থাপন করেছে, সংবিধানের আলোকে এগুলো আলোচনা করতে হবে। কারণ, সংবিধান সবার ঊর্ধ্বে, সংসদ সংবিধান মোতাবেক চলবে।’ তিনি আরো জানান, ২০টি বিষয় নিয়ে ২৯ মার্চ আবার আলোচনা হবে এবং যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে না, সেগুলো বিল আকারে সংসদে তোলা হবে।
অন্যান্য অধ্যাদেশে আপত্তি
জামায়াতে ইসলামী শুধু গণভোট অধ্যাদেশেই নয়, আরো কয়েকটি অধ্যাদেশের সংশোধনী প্রস্তাবেও আপত্তি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অধ্যাদেশ: রফিকুল ইসলাম খান বলেন, দুদকের চেয়ারম্যান নিয়োগে একটি পদ্ধতি থাকলেও সংশোধনী প্রস্তাবে তা বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সরকারকে ইচ্ছামতো নিয়োগের সুযোগ দেবে।
- পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ: আইজিপি নিয়োগে একটি পদ্ধতির কথা বলা আছে, কিন্তু সংশোধনীতে তা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয়েছে, যা জামায়াতের মতে অগ্রহণযোগ্য।
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ নিয়েও বিরোধী দলের আপত্তি রয়েছে।
অধ্যাদেশগুলোর বর্তমান অবস্থা
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, যেগুলো যাচাই-বাছাই করছে সংসদের এই বিশেষ কমিটি। এখন পর্যন্ত ১১৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে কমিটি একমত হয়েছে। জয়নুল আবেদীন জানান, এগুলোর মধ্যে কিছু হুবহু রাখা হবে, কিছু সংশোধিত আকারে রাখা হবে এবং কিছু বাদ যাবে। তবে কতটি রাখা হবে আর কতটি বাদ যাবে, তা সুনির্দিষ্ট করে এখনো জানানো হয়নি।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় সব অধ্যাদেশ নিয়েই কাজ করা হয়েছে, তবে কয়েকটার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। ২৯ মার্চ সব কটি অধ্যাদেশের ওপর পর্যালোচনা শেষ হবে এবং কমিটি তার প্রতিবেদন দেবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও জানান, অধ্যাদেশগুলোর ক্ষেত্রে তিনটি ভাগে উপস্থাপন করা হবে:
- যেসব অধ্যাদেশ সেভাবেই পাস হবে, যেভাবে উত্থাপিত হয়েছিল।
- যেসব বিষয়ে সংশোধনীসহ বিল আনা হবে, সেগুলো সংশোধনীসহ পাস হবে।
- যেসব বিষয়ে একমত না হবে, সেগুলো এই সেশনে বাদ হয়ে যাবে এবং পরবর্তীতে বিল আকারে উত্থাপন করা যাবে।
কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে আজকের বৈঠকে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনসহ অন্যান্য সদস্যরা।



