ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নির্বাচনী বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নিহত তিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় নির্বাচনী বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা তিনটার দিকে ঢাকা উত্তরা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাফাজুল হক (৫০) নামে একজন মারা গেছেন। নিহত মাফাজুল হক গোয়ালনগর ইউনিয়নের সিমেরকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুল নূরের ছেলে। নাসিরনগর থানার ওসি শাহীনুর ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংঘর্ষের পটভূমি ও পূর্ব ইতিহাস
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রহিম তালুকদার ও কাসেম গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং আক্তার মিয়া মারা যান। আহত হন উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষে আহত মাফাজুল হক ঢাকা উত্তরা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জাল ভোটের অভিযোগে রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর জিয়া মিয়াকে যৌথবাহিনী আটক করে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন। কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর জিয়া মিয়া সন্দেহ করেন যে স্বতন্ত্র প্রার্থী পক্ষের শিশু মিয়া তার গ্রেফতারে সাহায্য করেছিলেন। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে আগে থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর জেরেই কয়েকদিন আগেও দুই গোষ্ঠী সংঘর্ষে জড়ায়। একই ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে ফের রহিম গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর লোকজন টেঁটা-বল্লম নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
নাসিরনগর থানার ওসি মো. শাহিনুর ইসলাম জানান দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করছে।
এই সংঘর্ষের ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং নির্বাচনী বিরোধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।



