রাজশাহীর বাগমারায় যুবলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ
রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলায় পালিয়ে থাকা এক যুবলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের দুই সমর্থকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর ঘটনা ঘটেছে। ঈদের দিন শনিবার রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিবরণ
যুবলীগ নেতা সোহেল রানা, যিনি তাহেরপুর পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁর নুরপুরস্থ বাসায় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ১৫-১৬ জন মুখোশধারী ব্যক্তি প্রবেশ করে। তারা নিজেদের প্রশাসনের লোক বলে পরিচয় দিয়ে বাড়ির লোকজনকে জিম্মি করে সোহেল রানার ভাই সবুজ হোসেনকে খোঁজা শুরু করে। তাঁকে না পেয়ে তারা বাড়ির টেলিভিশন, আলমারি, এসি ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং সোনা ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে একই পদ্ধতিতে ওই এলাকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক ফরিদ হোসেন ও শামীম হোসেনের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। সেখানে টিভি, ফ্রিজ ও এসি ভেঙে ফেলা হয় এবং আসবাবপত্র নষ্ট করা হয়। ফরিদ হোসেনের বাবা মোজাহার আলী জানান, গরু বিক্রির দুই লাখ টাকা লুট হয়ে গেছে এবং তাঁর ছেলের আওয়ামী লীগের রাজনীতি করাই এ ঘটনার কারণ বলে তিনি মনে করেন।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য
সোহেল রানার বাবা আবদুল গাফফার বলেন, ‘আমার ছেলে বাড়িতে আছে কি না, জানতে চেয়েই হামলা করে। চোখে দেখা ছাড়া কিছুই করার উপায় ছিল না।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন যে থানা-পুলিশের কাছে গেলে মামলা না নিয়ে চুপ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সোহেল রানা নিজে প্রথম আলোকে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তাঁর বাড়িতে তিনবার হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং তিনি এ জন্য যুবদল ও ছাত্রদলকে দায়ী করেন, তবে কারোর নাম উল্লেখ করেননি।
সোহেল রানার ভাই সবুজ হোসেন বলেন, ‘আমরা দুই ভাই ৫ আগস্টের মিথ্যা মামলায় বাইরে ছিলাম, দীর্ঘদিন পরে আমি জামিন নিয়ে মাঝেমধ্যে বাসায় আসি, আবার বাইরে চলে যাই। এই বাহিনী এর আগেও দুইবার আমাদের বাড়িতে লুটপাট করেছে।’
পুলিশ ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল আলম বলেন, পুলিশ এ রকম কোনো ঘটনা সম্পর্কে জানে না এবং কেউ মামলা বা অভিযোগ করতে আসেনি। তিনি জানান, কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, সদ্য বিলুপ্ত তাহেরপুর পৌর যুবদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, যুবদল এমন কাজ করেনি এবং কারোর ব্যক্তিগত অপরাধের দায়ভার দল নেবে না।
স্থানীয় চারজন প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাড়িতে ডাকাতি হচ্ছে বলে তাঁরা মনে করেছিলেন এবং সবার হাতে অস্ত্র ছিল, তবে কাউকে চেনা যায়নি। ভয়ে তাঁরা ঘরে চুপ করে বসেছিলেন। শামীম হোসেনের বাবা ইউসুফ আলী বলেন, ‘আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি।’
পূর্বের ঘটনা
উল্লেখ্য, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যুবদল নেতা মুনছুর রহমানকে সরাসরি গুলি করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
এ ঘটনা রাজশাহী অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা ও অপরাধের একটি উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।



