বরিশালে সালিশি বৈঠকে পুলিশের সামনেই বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
বরিশালে সালিশি বৈঠকে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, পুলিশের সামনেই

বরিশালে সালিশি বৈঠকে পুলিশের সামনেই বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরহোগলা পৌর এলাকায় এক সালিশি বৈঠকের সময় পুলিশের সামনেই এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে সংঘটিত এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৫ বছর বয়সী খোরশেদ শিকদার। এছাড়াও তিনজন আহত হয়েছেন, যারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ ও সংঘর্ষের পটভূমি

চোখে দেখা সাক্ষী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি নির্মাণের ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য রোববার দুপুরে সালিশি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকের এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

পুলিশ তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে সংঘর্ষের সময় খোরশেদ শিকদারকে পুলিশ সদস্যদের সামনেই নির্বিচারে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তাকে মেহেন্দিগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হলে ডিউটি ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেপ্তার ও বিএনপির পদক্ষেপ

ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মেহেন্দিগঞ্জ পৌর বিএনপির ওয়ার্ড-১ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে। মেহেন্দিগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ রিয়াজ শাহীন জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীর হাওলাদারকে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাময়িকভাবে দল থেকে স্থগিত করা হয়েছে।

বরিশালের সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মেহেন্দিগঞ্জ থানার মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছিল পুলিশ, কিন্তু তাদের উপস্থিতিতেই খোরশেদ আহত হন এবং পরে হাসপাতালে মারা যান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আহত ও আইনি প্রক্রিয়া

সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ আরও জানান, এই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মৃতদেহ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পোস্টমর্টেম পরীক্ষার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চোখে দেখা সাক্ষীদের বক্তব্য অনুযায়ী, খোরশেদ শিকদার ও জাহাঙ্গীর হাওলাদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এই বিরোধ চলছিল এবং বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্যই বৈঠকটি ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠকের সময়ই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনার তদন্ত জোরদার করেছেন এবং আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন।