মাসুদ সাঈদীর জবাব: জুলাই সনদকে আবেগ বললে হবে না, সংবিধান সংস্কার জরুরি
মাসুদ সাঈদীর জবাব: জুলাই সনদ আবেগ নয়, সংস্কার জরুরি

মাসুদ সাঈদীর তীব্র প্রতিক্রিয়া: জুলাই সনদকে খাটো করার সুযোগ নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী স্পষ্ট ভাষায় মতামত দিয়েছেন। রোববার (১৫ মার্চ) সংসদে স্পিকারের অনুমতিতে নির্ধারিত ৮ মিনিটের বক্তব্যে তিনি জুলাই-আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

জুলাই সনদ: বিপ্লবী আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন

মাসুদ সাঈদী দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, জুলাই সনদ হলো বিপ্লবী ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তিনি বলেন, "আমরা দেখেছি জামায়াতে ইসলামীসহ অধিকাংশ দল এতে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিবস পার হতে চললেও এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি।" তার মতে, এই বিলম্ব জনগণের প্রত্যাশাকে ব্যাহত করছে।

বিএনপির ভূমিকা ও হতাশা

বিরোধী দলের এই এমপি আরও যোগ করেন যে, বিএনপি জুলাই সনদের পক্ষে গণভোটে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে দেশের মানুষকে চরমভাবে হতাশ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডেকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব

ইমোশন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে মাসুদ সাঈদী সতর্ক করে দেন, "জুলাই আবেগ হিসেবে দেখে খাটো করার সুযোগ নেই।" জুলাই আইনও না, অধ্যাদেশও না—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন কথার জবাবে তিনি বলেন, সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব অধ্যাদেশই আইন। সুতরাং এই মন্তব্য দায়িত্বশীল মন্তব্য হয়নি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

শিক্ষা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, দেশে ইনসাফ কায়েম করতে হলে দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। তিনি টিআইবি’র প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বলেন, "গত ১৫ বছরে কেবল সড়ক ও জনপথ বিভাগেই ৫২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত লুটপাট হয়েছে।" এই তথ্য দুর্নীতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের আহ্বান

তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও শুল্কমুক্ত গাড়ি বর্জনের সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, এই পদক্ষেপ দুর্নীতি রোধ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। সংসদে তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।