সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানে বিলম্ব: বিরোধীদলীয় নেতার তীব্র প্রতিক্রিয়া
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে ৩০ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই উদ্বেগ ও অসন্তোষের কথা উত্থাপন করেন।
আইনি বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ
ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সংসদীয় ১০ নম্বর অর্ডার অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করার সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। তিনি বলেন, "আজ সেই ৩০তম দিন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি"। এই বিলম্বকে তিনি আইনি বাধ্যবাধকতা উপেক্ষার একটি উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী সংসদ আহ্বান করেন, এবং ধারণা করা হচ্ছে যে একই প্রক্রিয়ায় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হবে। তবে সময়ের এই অপচয়কে তিনি গুরুতর উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছেন।
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের প্রসঙ্গ
বিরোধীদলীয় নেতা জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, "আমরা এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চাই"।
তিনি উল্লেখ করেন যে, বিধি অনুযায়ী শপথ গ্রহণের পর বিরোধীদলীয় ৭৭ জন সদস্য নির্ধারিত তফসিলে স্বাক্ষরও করেছেন, যা সংস্কার প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণের প্রস্তুতিকে নির্দেশ করে।
সংস্কার কাজের সময়সীমা ও সমাপ্তি
ডা. শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি বলেন, পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এরপরই পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আগে তো শুরু হতে হবে, তারপর সমাপ্তির প্রশ্ন"। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, পৃথক ব্যালটে সংস্কারের জন্য ভোট নেওয়া হয়েছে, এবং এখন এই পরিষদ গঠন ও অধিবেশন আহ্বান করা একটি আইনি বাধ্যবাধকতা।
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে ডা. শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কারের আইনি দিকগুলো বিশদভাবে তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে বর্তমান স্থবিরতা ও জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
