সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানে ব্যর্থতার অভিযোগ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জারি করা প্রেসিডেন্সিয়াল আদেশ অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর অধিবেশন ডাকার কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি রবিবার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।
সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপট
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আজ সেই ৩০তম পঞ্জিকা দিবস এবং এর সময়সীমা আজকেই শেষ হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি।” তিনি সময়ের বাধ্যবাধকতার কারণেই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করছেন বলে জানান।
তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত এই সংসদ স্বাভাবিকভাবে তার নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় আসেনি। এটি একটি প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে এসেছে, যা ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা হয়। এই অর্ডারের ১৫টি নির্দেশিকার মধ্যে ৩ থেকে ১৫ নম্বর বিষয়গুলো ‘জুলাই সনদ’ এবং গণভোটের সঙ্গে সম্পর্কিত।
আদেশের নির্দেশিকা ও বাস্তবায়ন
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “অর্ডারের ১০ নম্বর নির্দেশিকায় বলা হয়েছে— ‘সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হবে, অনুরূপ পদ্ধতিতে পরিষদের প্রথম অধিবেশনও আহ্বান করা হবে।’ আমার কনসার্নের বিষয়টা এখানেই। আজকে ৩০তম পঞ্জিকা দিবস, কিন্তু এর মধ্যে এই অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি।”
সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান করেন। তিনি ধরে নিচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি সংসদের এই সভা আহ্বান করেছেন। অর্ডারে পরিষ্কার বলা আছে, যে পদ্ধতিতে সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকা হবে, একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভাও ডাকতে হবে।
গণভোট ও পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া
গণভোটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আদেশের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আদেশে বলা ছিল, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। মাননীয় স্পিকার, এটি হয়নি এবং এর সময়সীমা আজকে শেষ।”
সংসদ সদস্যদের দ্বৈত ভূমিকা
সংসদ সদস্যদের দ্বৈত ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন— তারা এই সুযোগ পেতে চান। আদেশের তফসিল অনুযায়ী, ৭৭ জন বিরোধীদলীয় সদস্য সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পর একই অনুষ্ঠানে পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেছেন এবং অনুরূপ শপথপত্রে স্বাক্ষর দান করেছেন।
সংবিধান সংস্কারের সময়সীমা
সংবিধান সংস্কারের সময়সীমা সম্পর্কে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে। এরপর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে। কিন্তু কাজ তো আগে শুরু হতে হবে, তারপর সমাপ্ত! পরিষদের কর্মধারায় অংশগ্রহণের সময় নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ দুইটা ক্যাপাসিটিতে (পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য) কাজ করবেন।
অবিলম্বে প্রেসিডেন্সিয়াল আদেশের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।



