সংসদে নিয়মতান্ত্রিক তর্ককে মব কালচারে রূপান্তরের চেষ্টায় জাতি সতর্ক: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মূল্যবোধ বুঝার ঘাটতি রয়ে গেছে। সংসদীয় রাজনীতি চর্চা করতে গিয়েও যখন কোনো কোনো মহল তার মাত্রা অতিক্রম করে নিয়মতান্ত্রিক তর্ক-বিতর্ককে 'মব কালচারে' পরিণত করতে চান, তখনই জাতি সতর্ক হয়ে যায়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আবারো অন্য কোনো ধরনের মনোজগত ফিরে আসছে কিনা!
শনিবারের আলোচনা সভায় মন্ত্রীর বক্তব্য
শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের অগ্রদূত জননেতা মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার ৪৭তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের স্লোগান, চিৎকার-চেঁচামেচিকে ইঙ্গিত করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতির মধ্যে যে বহু মত, বহু চিন্তার শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান এবং গণতান্ত্রিক সুস্থ প্রতিযোগিতা—এই সবটা মিলিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আজও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির এই মূল্যবোধ বুঝার ঘাটতি রয়ে গেছে। সংসদীয় রাজনীতি চর্চা করতে গিয়েও যখন কোনো কোনো মহল তার মাত্রা অতিক্রম করে নিয়মতান্ত্রিক তর্ক-বিতর্ককে মব কালচারে পরিণত করতে চান, তখনই জাতি সতর্ক হয়ে যায়—আবারো অন্য কোনো ধরনের মনোজগত ফিরে আসছে কিনা!
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধরে রাখার আহ্বান
সব মহলকে সজাগ ও সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে প্রমাণ হয়েছে—যে রাজনৈতিক দল, যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় নির্বাচনি মূল্যবোধের বাইরে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় ঢুকে পড়েছে, তখনই কিন্তু গোটা জাতি সংকটের মধ্যে পড়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বারবার বলেছেন—গণতন্ত্র হয়তো সর্বোত্তম সমাধান নয়, কিন্তু এর চাইতে কোনো উত্তম সমাধান আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয় নাই।
অতএব সংশ্লিষ্ট সকল মহলকেই আমাদেরকে গণতান্ত্রিক রাজনীতির এই সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধকে আঁকড়ে ধরতে হবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে নতুন যাত্রা শুরু করেছে—সেখানে আমরা যদি গণতান্ত্রিক এই মূল্যবোধকে এবং বাংলাদেশি পরিচয় (অন্য কোনো পরিচয় নয়), তাকে যদি আমরা আঁকড়ে ধরতে পারি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের সীমানাকে আমরা যদি ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি, তাহলে আমাদের পরাজিত করার মতো কোনো শক্তি আমি দেখি না।
মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার স্মরণ ও ধানের শীষের ঐতিহ্য
মশিয়ূর রহমান যাদু ভাইয়ের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এই চেতনার ওপরে দাঁড়িয়ে যেই চিন্তার আলোকে ধানের শীষের গতিপথকে নির্ধারণ করে তিনি তার ক্যাটালিস্টের ভূমিকা পালন করেছিলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানকে ধানের শীষের নেতায় পরিণত করেছিলেন। অন্যান্য সহকর্মীদের নিয়ে—যেই ধারাবাহিকতাতে ধানের শীষ হাতে তুলে নিয়েছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যেই ধারাবাহিকতাতে আজও তারেক রহমান ধানের শীষকে বহন করছেন।
মাওলানা ভাসানীর প্রদর্শিত ধানের শীষ হাতে তোলা এই পথের মিছিলই হবে বাংলাদেশের একমাত্র পথ—এই বিশ্বাস আমি করি। এবং এই ইতিহাস চর্চা করতে গেলেই আমাদেরকে বারবার স্মরণ করতে হবে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মতো একজন প্রজ্ঞাবান জাতীয় নেতাকে। সর্বশক্তিমানের দরবারে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা
বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তৃতা করেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। এছাড়া আলোচক ছিলেন মজলুম রাজনীতিবিদ সৈয়দ দিদার বকত, বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী ও কাজী রফিক, যাদু মিয়ার মেয়ে রিটা রহমান প্রমুখ। এই আলোচনা সভায় রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে গভীর বিতর্ক উঠে এসেছে, যা জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
