স্পিকার হাফিজ উদ্দিন রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে মন্তব্যে অনিচ্ছুক, সংসদে নিরপেক্ষ আম্পায়ারিংয়ের প্রতিশ্রুতি
নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চান না বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি জাতীয় সংসদে ক্রিকেট খেলার আম্পায়ারের মতো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর স্পিকারের বক্তব্য
শুক্রবার (১৩ মার্চ ২০২৬) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন এ কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তারা তাদের রাজনৈতিক দিক থেকে গতকাল কার্যক্রম চালিয়েছে। আশা করি জাতীয় সংসদে তারা শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে একটি গণতান্ত্রিক সংসদ পাওয়া গেছে এবং আগামী দিনগুলোতে জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচেষ্টা রাখার আহ্বান জানান।
সংসদে ওয়াকআউট ও নিরপেক্ষতার বিষয়ে মন্তব্য
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের ওয়াকআউট নিয়ে জানতে চাইলে স্পিকার বলেন, ‘সংসদে ওয়াকআউট একটি প্রচলিত রীতি। তবুও তারা মোটামুটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল। তবে সংসদের স্লোগান দেওয়া ঠিক না, এটা সংসদের রেওয়াজের বাইরে।’
নিরপেক্ষ থাকার বিষয়ে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘সংসদে আমরা (স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার) নিরপেক্ষ থাকবো। ক্রিকেট খেলায় যেমন আম্পায়ার থাকে, আমরাও সেরকম নিরপেক্ষ আম্পায়ারিং করব।’ এই মন্তব্যে তিনি সংসদীয় কার্যক্রমে তার ভূমিকার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
স্পিকার নির্বাচনের পটভূমি
গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে সংসদীয় নেতা তারেক রহমান সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন, যা সরকারি ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের পূর্ণ সমর্থন পায়।
পরবর্তীতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম স্পিকার হিসেবে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিনের নাম প্রস্তাব করেন এবং খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম তা সমর্থন করেন।
সভাপতিত্বকারী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে তা ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার নির্বাচিত হন। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণ লক্ষণীয় ছিল, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের এই বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতিগুলো জাতীয় সংসদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে তার নিরপেক্ষ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ নেতৃত্বের প্রত্যাশা জাগিয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



