ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু: শপথ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকলের মধ্য দিয়ে সংসদ ভবনে পৌঁছান। এই অধিবেশনে নবনির্বাচিত স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং একজন মন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের বিস্তারিত বিবরণ
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উপস্থিতিতে স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে কায়সার কামাল শপথবাক্য পাঠ করেন। এছাড়া, টাঙ্গাইল–৮ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ আযম খান মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শোকপ্রস্তাব ও নীরবতা পালন
অধিবেশনের শুরুতে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে একটি শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন, যা একটি গভীর শ্রদ্ধার মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা ও বিরোধী দলের প্রতিবাদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা প্রদান করেন। তার বক্তৃতায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মসূচি তুলে ধরা হয়। তবে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানালে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদী বক্তব্য–সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এই বিক্ষোভ অধিবেশনে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও অন্যান্য উপস্থিতি
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ দেন, যেখানে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সংসদীয় ঐতিহ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অধিবেশনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনাগুলো ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনকে একটি ঐতিহাসিক ও ঘটনাবহুল দিন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
