ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ঐতিহাসিক ভাষণ: মুক্তিযোদ্ধা ও গণতন্ত্রের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সব অবিসংবাদিত নেতার অবদানকেও তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন।
খালেদা জিয়ার অবদান ও গণতন্ত্রের সংগ্রাম
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তার ভাষণে তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকেও বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তিনি প্রতিবার সামনের কাতারে থেকে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই মহান সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে গণতন্ত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেন। রাষ্ট্রপতি আরও যোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই উদ্বোধনী অধিবেশন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।
তিনি নির্বাচন কমিশন, মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান। এছাড়াও, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির আন্তরিক উদ্যোগ এবং সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপির বিজয় ও নতুন সরকারকে অভিনন্দন
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, বর্তমান সংসদে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। তিনি এই সংসদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি, নির্বাচিত সব সংসদ সদস্যকেও তিনি অভিনন্দন জানান।
বিরোধী দলের প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট
রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরুর আগে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন তাকে ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। তবে এই সময়ে বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেখানে জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না এবং জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতা বন্ধ কর এর মতো বক্তব্য উল্লেখ ছিল। স্পিকার এ সময় সবাইকে শান্ত থাকতে আহ্বান জানালেও, শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন।
এই ঘটনা সংসদীয় প্রক্রিয়ায় একটি উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত সৃষ্টি করে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণে জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নের আহ্বান সত্ত্বেও, বিরোধী দলের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক বিভাজনের একটি চিত্র তুলে ধরে।
