খালেদা জিয়ার শোকপ্রস্তাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আবেগঘন বক্তব্য
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সংসদে উপস্থিত থাকলে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে খালেদা জিয়ার শোকপ্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারে খালেদা জিয়ার ভূমিকা
সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার হাত ধরেই বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরায় যাত্রা শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন, সেই সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালু হয়েছিল এবং দেশে গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষার অগ্রগতি অভূতপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ২০০১ সালে খালেদা জিয়া আবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার ঘটনাও তিনি স্মরণ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আজকে আপনারা অনেকেই এই শোক প্রস্তাবে বলেছেন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তিনি আসলে চারবার শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।" খালেদা জিয়াকে অপরাজিতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এরকম আর কোনো নজির নেই এবং উপমহাদেশে আছে কিনা তা তিনি নিশ্চিত নন।
একজন আপসহীন দেশনেত্রীর প্রতিচ্ছবি
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "যতবারই, যত আসনেই তিনি নির্বাচন করেছেন, ততবারই, তত আসনেই তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আপসহীন দেশনেত্রী।" তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে আলাপ করতে গেলে সংসদের একটি অধিবেশন নয়, প্রতিটি অধিবেশনই যেন কম হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, "আজকের এই মহান জাতীয় সংসদে, যেহেতু আমাদের দীর্ঘ সতেরো বছরের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যেই গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ওপর দাঁড়িয়ে, শহীদের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে যে ভিত্তি নির্মাণ হয়েছে, তার ভিত্তিতে আমরা এই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আছি, সেজন্য আমি আজকে সময় বেশি নেবো না।"
অন্যান্য সংসদ সদস্যদের আলোচনা
জানা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পর খালেদা জিয়ার শোকপ্রস্তাব নিয়ে সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলামও আলোচনা করেন। তাদের বক্তব্যগুলোতে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের বিভিন্ন দিক উঠে আসে।
এই অধিবেশনে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে স্মরণ করা হয়। সংসদ সদস্যগণ তার গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
