সংসদে ফখরুলের বক্তব্য: খালেদা জিয়ার ৪৩ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা
ফখরুলের বক্তব্য: খালেদা জিয়ার ৪৩ বছরের সংগ্রাম

সংসদে ফখরুলের বক্তব্য: খালেদা জিয়ার ৪৩ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন নিয়ে গভীর শ্রদ্ধা ও মূল্যায়নমূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) সংসদ অধিবেশনে তিনি খালেদা জিয়ার ৪৩ বছরের রাজনৈতিক দাপটের কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে তিনি ৪৩ বছর ধরে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করেছেন এবং গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ইস্যুতে কখনো আপস করেননি।

একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কের অবদান

মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, খালেদা জিয়ার সম্পর্কে অল্প সময়ে কথা বলা কঠিন, কারণ তিনি একজন দূরদর্শিতাসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। তার মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং তিনি এই লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।

  • তিনি দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন এবং নারীদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
  • প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।
  • কৃষকদের ঋণ মওকুফ এবং অর্থনীতি প্রাণবন্ত করতে ভ্যাট চালু করার মতো অর্থনৈতিক সংস্কারও তার শাসনামলে বাস্তবায়িত হয়েছিল।

সংগ্রাম ও মুক্তির গল্প

ফখরুল আরও বলেন, ফ্যাসিস্টরা খালেদা জিয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল, কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি মুক্ত হয়ে প্রতিহিংসার পরিবর্তে মানুষকে ভালোবাসার মাধ্যমে কল্যাণকর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সংসদে তার বক্তব্যের শুরুতেই মন্ত্রী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে প্রাণ হারানো সকল ব্যক্তি এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন এবং দুইবার বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তার রাজনৈতিক জীবনের বৈচিত্র্য ও দৃঢ়তাকে তুলে ধরে। মির্জা ফখরুল জাতীয় সংসদে প্রখ্যাত কবি আল মাহমুদ রচিত খালেদা জিয়াকে নিয়ে কবিতার কিছু অংশও আবৃত্তি করেন, যা তার প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করে।

এই বক্তব্য ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অধ্যায় পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার জীবন ও সংগ্রাম দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমৃদ্ধ করার একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।