রাষ্ট্রপতির সংসদ ভাষণ: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ, সরকারের অগ্রাধিকার ও বিরোধী দলের প্রতিবাদ
রাষ্ট্রপতির সংসদ ভাষণ: জুলাই স্মরণ, সরকারের অগ্রাধিকার

রাষ্ট্রপতির সংসদ ভাষণে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ ও সরকারের অগ্রাধিকার

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের কথা স্মরণ করেন। তিনি জুলাই শহীদদের স্মরণে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।

অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপ

রাষ্ট্রপতি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের হালনাগাদ তথ্য প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কৃষি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেবে। দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

নারীর উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের ব্যবস্থা করেছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি। এছাড়াও, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন।

শিক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অবৈতনিক পড়াশোনা এবং ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির কথা বলেন। প্রতি বছর ৫ কোটি বৃক্ষরোপনের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। সামাজিক, প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা সংসদে তুলে ধরেন।

বিরোধী দলের প্রতিবাদ ও অধিবেশনের সমাপ্তি

ভাষণ দেওয়ার আগে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানান। এ সময় বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান, তাঁদের হাতে জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না এবং জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর ইত্যাদি স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। স্পিকার শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও, হইচইয়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করেন।

ভাষণ শেষে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন ছেড়ে যান এবং আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সংসদ মুলতবি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কথাও তিনি সংক্ষেপে তুলে ধরেন, যা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।