সংসদে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য: জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী দাবি
সংসদে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য: জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে নাহিদ ইসলামের জোরালো বক্তব্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় শুরু হওয়া সভায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, 'আজকে সবাই এক বাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের কারণে আমরা সবাই সংসদে বসতে পেরেছি। মহান সংসদে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সৈনিকেরা আছি।'

ফ্যাসিবাদ বিরোধী দাবি ও স্পিকারের প্রতি অনুরোধ

নাহিদ ইসলাম স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, 'আপনার প্রতি নিবেদন থাকবে, কোনো ফ্যাসিস্ট বা তার দোসর যাতে বক্তব্য দিয়ে সংসদকে কলুষিত করতে না পারে। আমরা ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিবাদের দোসর মুক্ত জাতীয় সংসদ চাই।' এই বক্তব্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেওয়ার বিষয়কে সামনে রেখে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং তার বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম এমন দাবি তুলেছেন।

স্পিকার নির্বাচন ও অধিবেশনের প্রক্রিয়া

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) নির্বাচিত হন। সংসদ নেতা তারেক রহমানের প্রস্তাবনায় সভাপতিত্ব করেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, যিনি স্পিকারের নাম ঘোষণা করেন। পরে সংসদ সদস্যদের সমর্থনের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়, তবে এবার এর ব্যতিক্রম হয়েছে। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি এবং হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) কারাগারে রয়েছেন।

এই অধিবেশনটি জাতীয় সংসদের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন একসাথে উঠে এসেছে। নাহিদ ইসলামের বক্তব্য সংসদে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছে, যা ভবিষ্যত রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।