জামায়াত ডেপুটি স্পিকার পদ নিতে অস্বীকৃতি জানাল, সরকারি দল থেকেই নির্বাচিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার পদটি সরকারি দলীয় সংসদ সদস্যের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হয়েছে। বিরোধী দল জামায়াত থেকে কারও নাম প্রস্তাব না করায় এমনটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। এরপর ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
জুলাই সনদ নিয়ে জামায়াতের অবস্থান
এর আগে, সরকার জুলাই সনদ নিয়ে গড়িমসি করছে এমন অভিযোগ এনে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে তারা ডেপুটি স্পিকার পদটি নেবে না। বুধবার (১১ মার্চ) জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "জুলাই সনদেই আছে যে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। আমরা খণ্ডিতভাবে এটা চাচ্ছি না, আমরা চাই প্যাকেজ, আমরা চাই পিস মিল; পুরোটাই সেখানে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হোক এবং এর ভিত্তিতে আমরা যেন আমাদের ন্যায্য দায়িত্ব পালন করতে পারি।"
সরকারি দলের পক্ষ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দল জামায়াত থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও, বাস্তবে দেখা গেছে যে পদটি সরকারি দলীয় সদস্যের কাছেই রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদ অধিবেশনটি স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হয়, যা সংসদ সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।
সংসদীয় প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনা ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জামায়াতের সিদ্ধান্ত সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করতে পারে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন যে, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যত রাজনৈতিক আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে।
সংসদ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, যা এই অধিবেশনের শান্তিপূর্ণ সমাপ্তির ইঙ্গিত দেয়। তবে, বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন জাতীয় সংসদের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
