বিএনপির সংসদ উপনেতা পদে চার জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায়, সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
বিএনপির সংসদ উপনেতা পদে চার নেতার নাম আলোচনায়

বিএনপির সংসদ উপনেতা পদে চার জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নতুন সরকারের অধীনে আগামীকাল ১২ মার্চ বসতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। বেলা ১১টায় এই অধিবেশন শুরু হবে। এর আগেই সরকারি দলের সংসদ উপনেতা পদে কে আসছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংসদ উপনেতার ভূমিকা ও গুরুত্ব

সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, সংসদ নেতা হন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ নেতার অনুপস্থিতিতে সরকারি দলের সংসদ উপনেতা সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ পদটি মন্ত্রী পদমর্যাদার হওয়ায় সংসদে তার জন্য আলাদা অফিসসহ মন্ত্রীদের মতো সুযোগ-সুবিধা থাকে। সংসদ উপনেতা পদে সাধারণত দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাই মনোনয়ন পেয়ে থাকেন। অতীতে আওয়ামী লীগের সময়ে সাজেদা চৌধুরী ও মতিয়া চৌধুরী ছিলেন। খালেদা জিয়ার সময়কালে অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দৌজা চৌধুরী সংসদ উপনেতা ছিলেন। পরবর্তী সংসদগুলোতে আলোচনায় ছিলেন সাইফুর রহমান ও মান্নান ভুইয়া।

আলোচনায় থাকা চার জ্যেষ্ঠ নেতা

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই পদে বিএনপির চারজন সিনিয়র নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন—দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান ও সেলিমা রহমান। এদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ড. আব্দুল মঈন খান এবারের নির্বাচনে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় তাদের কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে সংসদ উপনেতা পদে তাদের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের নামও আলোচনায় এসেছে। তবে তাকে এ পদে বিবেচনা করা হলে আগে সংরক্ষিত মহিলা আসনের মাধ্যমে সংসদ-সদস্য হতে হবে, কারণ তিনি সরাসরি নির্বাচিত এমপি নন।

দলীয় আলোচনা ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া

দলীয় সূত্র জানায়, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পাশাপাশি সংসদ উপনেতা নির্বাচনের বিষয়টি সামনে আসতে পারে। এ নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। রাষ্ট্র ও সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতাদের দায়িত্ব দিতে চাইছে দলটি। এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান সংবিধানে সংসদ উপনেতা নির্বাচনের সরাসরি কোনো বিধান নেই। তবে অতীতে এ পদে নিয়োগ দেওয়ার নজির রয়েছে এবং দলের ভেতরে অনেকের মতে এ পদটির প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও সংসদ উপনেতা—এই তিনটি পদ নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত এসব পদে কে আসবেন, তা নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি যাকে উপযুক্ত মনে করবেন, তাকেই সরকারি দলের সংসদ উপনেতা করা হবে।

সংসদীয় দলের বৈঠক ও অধিবেশনের প্রস্তুতি

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার ভার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দিয়েছে বিএনপির সংসদীয় দল। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানান, আগামীকাল বেলা ১১টায় শুরু হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন। বৈঠকের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচন হবে। চিপ হুইপ জানান, আগামীকাল স্পিকারের চেয়ার খালি রেখে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। শুরুতে একজন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করবেন। এরপর সংসদ নেতা এই সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য কোনো একজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম প্রস্তাব করবেন। কোনো একজন সংসদ সদস্য তা সমর্থন করবেন। তারপর ওই সদস্য (যার নাম প্রস্তাব করা হবে) সভাপতিত্ব করবেন।