সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার অধিকার নেই: তাহেরের তীব্র অভিযোগ
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যেখানে তিনি রাষ্ট্রপতিকে ফ্যাসিস্টের দোসর বলে অভিহিত করে দাবি করেছেন যে সংসদে তার ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে সংসদের বিরোধী দলের এমপিদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
বিএনপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
তাহের বলেন, অধিবেশনে এ রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। তবে তিনি বিএনপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, বিএনপি কী কারণে এ কাজটি করছে, তা বোধগম্য নয়। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে আলোচনা
সংসদে ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়েও তাহের কথা বলেন। তিনি জানান, অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে বিরোধী দলের একটি আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাব আসার পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই আলোচনা সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের ভূমিকা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিরোধী দলের বৈঠকের সিদ্ধান্ত
এর আগে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলটির সংসদ সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে আসন্ন সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলের নোটিশ, মুলতবি প্রস্তাব ও সাধারণ আলোচনার বিষয়বস্তু কী হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) শুরু হচ্ছে। তবে এতে কে সভাপতিত্ব করবেন তা এখনো নির্ধারণ হয়নি। নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কে হচ্ছেন, সে সিদ্ধান্তও আসেনি। জুলাই সনদ অনুযায়ী প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ডেপুটি স্পিকার দেবে কিনা, তাও নির্ধারণ হয়নি। এই অনিশ্চয়তা সংসদীয় কার্যক্রমের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সংসদ ভবনে এই রাজনৈতিক উত্তেজনা চলমান থাকায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে। বিরোধী দলের এই অবস্থান আগামী দিনগুলিতে সংসদীয় বিতর্ক ও আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে।
