সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যুতে উত্তপ্ত হতে পারে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন
সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে উত্তপ্ত হতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: উত্তপ্ত হতে পারে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বহুল কাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী বৃহস্পতিবার বসতে যাচ্ছে। বেলা ১১টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন শুরু হবে বলে নির্ধারিত রয়েছে।

প্রথম দিনের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা

প্রথম দিনেই নতুন সংসদের স্পিকার নির্বাচন করা হবে, যা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এছাড়াও, সংসদ উপনেতা এবং ডেপুটি স্পিকার কে হবেন, সেই সিদ্ধান্তও এই দিনেই জানা যাবে। আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য এই অধিবেশনে নির্ধারিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদি এই সময়সীমার মধ্যে অনুমোদন না হয়, তাহলে অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে, যা সরকারি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের সংসদ আগের গতানুগতিক কোনো সংসদের মতো হবে না। গণ-অভ্যুত্থানের পর সংস্কারের যে ব্যাপক জন-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পড়েছে এই ত্রয়োদশ সংসদের ওপর। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে নিষ্পত্তি হবে এই সংসদে। রাজনৈতিক দলগুলো বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, এবং এই সনদ সংসদে পাস করানোর দায়িত্ব রয়েছে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যুতে উত্তাপ

বিশেষ করে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ ইস্যুতে প্রথম অধিবেশনেই উত্তপ্ত হতে পারে জাতীয় সংসদ। নির্বাচনের পর সরকারি দলের নির্বাচিত সদস্যরা শুধু সংসদ-সদস্য হিসাবে শপথ নিয়েছেন, কিন্তু বিরোধী দলের সদস্যরা নিয়েছেন দুটি শপথ: একটি সংসদ-সদস্য হিসাবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দাবি করছেন যে, একই দেশে দুই ধরনের নিয়ম চলতে পারে না, যা একটি বিতর্কিত বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

এই উত্তাপ সংকটে রূপ নেয় কিনা, তা দেখার জন্য সবার দৃষ্টি এখন সংসদ অধিবেশনের দিকে নিবদ্ধ। অধিবেশন শুরুর মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক মহল, যার মধ্য দিয়ে মাঠের রাজনীতি জাতীয় সংসদে গড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, এই প্রক্রিয়া সংসদকে আরও প্রাণবন্ত ও গতিশীল করে তুলবে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।