শাহবাগে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো নিয়ে হাতাহাতি, গ্রেপ্তার ২
শাহবাগে ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে হাতাহাতি, গ্রেপ্তার

শাহবাগে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো নিয়ে উত্তেজনা ও হাতাহাতি

রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি রিকশায় আনা মাইকে ওই ভাষণ চালানো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

হাতাহাতি ও গ্রেপ্তারের ঘটনা

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি এবং ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয় ইমির গ্রুপের দুই সদস্যকে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ থানার ভেতরেই ইমির দলের সদস্যদের ওপর হামলা করেন ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা, এরপর তাদের পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়।

পুলিশের ডিসি মাসুদ ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন, ‘যাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে, তার বিরুদ্ধে সেই অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এই বক্তব্য ঘটনার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে।

পূর্ববর্তী আটক ও প্রতিবাদ

এই ঘটনার আগে, দুপুরে রাজধানীর চানখাঁরপুল মোড়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সাউন্ড বক্সে বাজানোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ দুইজনকে আটক করে শাহবাগ থানার পুলিশ। আটক শিক্ষার্থীর নাম আসিফ আহমেদ, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র। তার সঙ্গে সাউন্ড বক্স পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আরেকজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

এই আটকের প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো হয়, যা পরবর্তীতে হাতাহাতির ঘটনার দিকে মোড় নেয়। ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত সাউন্ড বক্সটিও পুলিশ জব্দ করে নিয়েছে, যা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে।

ইমির বক্তব্য ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

উত্তেজনার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের ইমি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক। তিনি তো আর এমন না যে, তাকে ব্যবহার করলাম, তারপর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেল, ৩২ নম্বর ভাঙলাম, তার ম্যুরাল ভাঙলাম, এমন তো না। তিনি আমাদের জাতির জনক, এটা তো অমীমাংসিত ব্যাপার।’ এই বক্তব্য ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও জাতীয় প্রতীকের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিতর্কের দিকগুলো তুলে ধরে।

ঘটনাটি রাজধানীর একটি ব্যস্ত এলাকায় সংঘটিত হওয়ায়, এটি স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের তৎপরতা এখনও চলমান, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা এড়াতে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।