ইউনূসের 'অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি' ঘোষণার গেজেট বিজি প্রেসের ওয়েবসাইটে অনুপস্থিত
ইউনূসের গেজেট বিজি প্রেসের ওয়েবসাইটে নেই

ইউনূসের 'অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি' ঘোষণার গেজেট বিজি প্রেসের ওয়েবসাইটে অনুপস্থিত

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা ছাড়ার আগে নিজেকে 'অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি' ঘোষণা করে গেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে ১০ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হলেও সেটি এখন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের (বিজি প্রেস) ওয়েবসাইটে নেই।

গেজেটের অনুপস্থিতি ও সরকারি নির্দেশনা

সাধারণত সরকার কর্তৃক প্রকাশিত সব গেজেট বিজি প্রেসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পুরনো গেজেটগুলোও সেখানে পাওয়া যায়। তবে ইউনূসের গেজেটটি অনুপস্থিত। বিজি প্রেসের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনাই অনুসরণ করেছেন তারা। তিনি বলেন, "অনেক সময় কোনো সংস্থা গেজেট করলে গেজেটের আদেশের কপি ওয়েবসাইটে না দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। তখন আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। এ ক্ষেত্রেও সরকারি নির্দেশনার কারণেই এটি ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়নি।"

এসএসএফ সুবিধা ও আইনগত প্রক্রিয়া

গেজেট অনুযায়ী, ড. ইউনূস দায়িত্ব ছাড়ার পর এক বছর পর্যন্ত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সুবিধা পাবেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই, বিশেষ নিরাপত্তা আইন ২০২১ এর ১২ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ এ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা বিধিমালা ২০২৫ এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।

অধ্যাপক ইউনূসের প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালীন সময়ের প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় লিখেছেন যে, এসএসএফ সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টা কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। তিনি বলেন, এটি এসএসএফের একটি প্রক্রিয়াগত বাধ্যবাধকতা এবং আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া এসএসএফ কোনো সাবেক সরকার প্রধানকে নিরাপত্তা দেয় না। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমানও দায়িত্ব ছাড়ার আগে এ ধরনের একটি আদেশ হয়েছিল।

গেজেটের বিস্তারিত ও প্রাসঙ্গিক ঘটনাবলী

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা গেজেটে বলা হয়েছে, সরকার বিশেষ নিরাপত্তা আইন ২০২১ এর ধারা ২ (ক) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তার দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য 'অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি' হিসেবে ঘোষণা করিল। ফলে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী তিনি এসএসএফ সুবিধা পাবেন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শপথ গ্রহণ করায় ওইদিনই ইউনূসের সরকারের মেয়াদ শেষ হয়। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তার সরকারি বাসভবন ছেড়ে গেছেন। তিনি ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার শপথ নিয়েছিলেন।

গেজেটে উল্লিখিত নিরাপত্তা বিধান

গেজেটে আরও বলা হয়েছিল:

  • রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কার্যালয় এবং বাসভবনের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব মহাপরিচালকের ওপর ন্যস্ত থাকবে।
  • দুর্যোগ বা দুর্ঘটনা থেকে রক্ষার জন্য মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।
  • বিভিন্ন বেষ্টনীতে নিরাপত্তা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হবে এবং প্রয়োজনে সামরিক সচিবের সঙ্গে পরামর্শ করা যাবে।
  • কার্যালয়, বাসভবন ও অনুষ্ঠানস্থলে দর্শনার্থী ও যানবাহনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত হবে।
  • অনুষ্ঠানস্থলে অস্ত্র বহনে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লা পান্না এ প্রজ্ঞাপনে সই করেছিলেন, যিনি এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত। একটি জাতীয় দৈনিকে তিনি এই প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।