কুষ্টিয়ায় ডিসিকে বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলনে নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি
কুষ্টিয়ায় ডিসি বহালের দাবিতে আন্দোলনে নারীদের উপস্থিতি

কুষ্টিয়ায় ডিসিকে বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ

কুষ্টিয়ায় জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেনকে প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে বহাল রাখার দাবিতে নতুন করে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই আন্দোলন শুরু হয়, যেখানে হাজারো মানুষের সমাবেশ ঘটে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সমবেত জনতার প্রায় অর্ধেকই নারী, যারা ডিসিকে কুষ্টিয়ায় বহাল রাখার দাবিতে জোরালো স্লোগান দিচ্ছিলেন।

দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি ও আন্দোলনের পটভূমি

আন্দোলন শুরুর সময়েই কার্যালয়ের ভেতরে ডিসির দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, স্থানীয় সরকারের কুষ্টিয়ার উপপরিচালক আহমেদ মাহবুব উল ইসলামের কাছে জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন বলে নির্দেশনা পাওয়া গেছে। গত রোববার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়াসহ দেশের পাঁচটি জেলার ডিসিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়।

জামায়াতে ইসলামী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা ডিসিকে বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেন, অন্যদিকে বিএনপি ও যুবদলের নেতারা সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান। গতকাল উভয় পক্ষ বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে, তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও এই বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা চলছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি ও কার্যক্রম

আন্দোলনকারীরা ‘জুলাই যোদ্ধা ও কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে ডিসিকে বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা একটি মিছিল নিয়ে শহরের মজমপুর রেলগেট প্রদক্ষিণ শেষে আবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ফিরে আসেন এবং এখনো সেখানে অবস্থান করছেন। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ডিসিকে বহাল রাখার প্রজ্ঞাপন না আসবে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে এবং কেউ এখান থেকে যাবে না।

এ সময় সেনাসদস্যদের একটি গাড়ি ও পুলিশের টহল দেখা গেছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ইঙ্গিত দেয়। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজা উদ্দীন জোয়ার্দ্দার দাবি করেন, এই আন্দোলন দলীয় নয়, বরং ডিসির ভালো কাজের প্রতি মানুষের ভালোবাসার প্রকাশ। তিনি বলেন, ‘যদি দলীয় বিষয় থাকত, তাহলে আমরা যেতাম বা থাকতাম। উনি যেভাবে রাতদিন ভালো কাজ করেছেন, সেখানে ভালোবাসার জায়গা থেকে মানুষ গেছে।’

বিপক্ষের অবস্থান ও সামগ্রিক প্রভাব

অন্যদিকে, বিএনপি ও যুবদলের নেতারা মনে করেন, সরকার কাকে প্রত্যাহার করবে না করবে, সেটা সরকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তারা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের বদলি ঠেকাতে জামায়াত-শিবির ‘মব’ তৈরি করছে। এই বিভেদের মধ্যেই আন্দোলন চলমান রয়েছে, এবং নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এটিকে একটি অনন্য মাত্রা দিয়েছে। কুষ্টিয়া সদর এলাকায় এই আন্দোলন স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা খুলনা বিভাগের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।