কিশোরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার স্ত্রীর লাশ উদ্ধার, স্বামী পুলিশ হেফাজতে
কিশোরগঞ্জ শহরের আলোর মেলা আবাসিক এলাকা থেকে উম্মে সিজ্জিল ইফতি (২২) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মুমতাজ মুকুলের স্ত্রী হিসেবে পরিচিত। রোববার (১ মার্চ) রাতে লাশটি উদ্ধার করা হয় এবং সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
মুমতাজ মুকুল ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার মুশুল্লি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, মুমতাজ মুকুলের দুই স্ত্রী রয়েছেন। এর মধ্যে দ্বিতীয় স্ত্রী ইফতি স্বামীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ শহরের আলোর মেলায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। অন্যদিকে, প্রথম স্ত্রী একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এবং তিনি সন্তানদের নিয়ে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকার জনতা রোডের একটি বাসায় বসবাস করেন।
স্থানীয় সূত্রমতে, মুকুল বেশিরভাগ সময় ইফতির সঙ্গেই থাকতেন, কিন্তু তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। রোববার রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের ঝগড়ার আওয়াজ শুনেছেন। রাতের একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা জানালা দিয়ে দড়িতে ঝুলতে দেখেন ইফতিকে, যা ঘটনাটিকে আরও ট্র্যাজিক করে তোলে।
পুলিশের তদন্ত ও ব্যবস্থা
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং দরজা ভেঙে ইফতির লাশ উদ্ধার করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ সময় তার স্বামী মুমতাজ মুকুল বাসায় অনুপস্থিত ছিলেন। সোমবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইফতির স্বামী মুকুলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, যা তদন্তকে আরও গভীর করে তুলেছে।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। এছাড়া, ইফতির স্বামী মুকুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, যাতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্ভব হয়।"
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশের তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শীঘ্রই ঘটনার সঠিক কারণ ও পরিস্থিতি উদ্ঘাটিত হবে।
