প্রথম আলো ভবনে হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা স্বীকার করলেন আসিফ নজরুল
প্রথম আলো হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা স্বীকার আসিফ নজরুলের

প্রথম আলো ভবনে হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা স্বীকার করলেন আসিফ নজরুল

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সরকারে থাকা অবস্থায় প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর হামলা ঠেকাতে না পারাকে নিজেদের অনেক বড় ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর পুড়িয়ে দেওয়া ভবনে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী 'আলো' ঘুরে দেখার পর শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

হামলার রাতে অসহায়ত্বের অনুভূতি

আসিফ নজরুল হামলা ঠেকাতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেন, 'সেই রাতের ঘটনা মনে পড়ে। ওই রাতে প্রায় ৫০-৬০ বার প্রথম আলোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। উৎকণ্ঠা নিয়ে বিভিন্ন জায়গাতে ফোন করেছি। ঠিক বোঝানো যাবে না যে কী রকম একটা অসহায় অবস্থা একটা সরকারের লোকের হতে পারে। অবশ্যই আমরা এটা ঠেকাতে পারিনি সরকারে থাকা অবস্থায়। এটি আমাদের অনেক বড় ব্যর্থতা। কিন্তু প্রথম আলোর মানুষজন জানে যে আমাদের কী প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা ছিল।'

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রথম আলো ভবনে হামলা হয়, যেখানে ভবনটি ভাঙচুরের পর আগুন দেওয়া হয়। এরপর ডেইলি স্টার আক্রান্ত হয়। অন্তর্বর্তী সরকার তখন ক্ষমতায় ছিল এবং আসিফ নজরুল আইন উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।

প্রদর্শনীতে দেখা ধ্বংসের চিত্র

প্রদর্শনী ঘুরে দেখার সময় আসিফ নজরুলের সঙ্গে ছিলেন প্রথম আলোর নির্বাহী ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ। আসিফ নজরুল বলেন, 'দানবীয় শক্তির উন্মত্ততা, নিষ্ঠুরতা কত ভয়াবহ হতে পারে, সেটা অনেক দিন ভেবেছি। কিন্তু আজকে এসে দেখলাম আমার সমস্ত ভাবনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। মানুষ কত ভয়াবহ এবং জঘন্য হতে পারে। কত ডিভাস্টেটিং (বীভৎস) হতে পারে, সেটির একটা জীবন্ত উদাহরণ হয়ে থাকল প্রথম আলোর এই ভবনটা।'

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে প্রদর্শনীর একটি বড় বার্তা রয়েছে। 'এত উন্মত্ত শক্তির ক্রোধের পরও, ধ্বংসযজ্ঞের পরও প্রথম আলো যেভাবে ঘুরিয়ে দাঁড়িয়েছে, এই ধ্বংসের জায়গাটাকে একটা শিল্পের পর্যায়ে, একটা প্রতিবাদের জায়গায় নিয়ে এসেছে। এটির একটি বড় বার্তা আছে, সেটা হচ্ছে কোনো কিছুর পরও আমরা হেরে যেতে রাজি নই। কোনো কিছুর পরও দানবীয় শক্তি বা ধ্বংসযজ্ঞের শক্তির কাছে সৃষ্টিশীল মানুষের পরাজয় কোনোভাবেই হবে না।'

প্রথম আলোর সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক

আসিফ নজরুল প্রথম আলোর সঙ্গে তার স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, 'প্রথমা থেকে আমার অনেক বই বের হয়েছে। আমি এখানে প্রায়ই আসতাম। এখানে ইন্টারভিউ দিতাম বই প্রমোশনের জন্য।' তিনি সব সময় প্রথম আলোর সঙ্গে থাকার ঘোষণা দিয়ে বলেন, 'এই নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের জন্য অনেক বড় বিয়োগান্ত ঘটনা। বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় বিয়োগান্ত ঘটনা। হয়তো এটির মাধ্যমেই বাংলাদেশের মানুষ সচেতন হয়েছে যে এই ধ্বংস সৃষ্টিকারীরা, উগ্রবাদীরা কত ভয়াবহ, কত উন্মত্ত, কত কাণ্ডজ্ঞানহীন হতে পারে। ভবনের ভেতরে দেখে মনে হয়েছে যেন গাজা স্ট্রিপের কোনো জায়গায় চলে এসেছি। মনে হচ্ছে এখানে বোমা পড়েছে। এই যে সচেতনতা মানুষের মধ্যে এসেছে, সেটির কারণে হয়তো বাংলাদেশ আরও অনেক বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। আমি প্রথম আলোর লেখক। প্রথম আলোর সঙ্গে ছিলাম, সব সময় প্রথম আলোর সঙ্গে থাকব।'