কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ রাখতে ৫০ কোটি টাকার ঘুষের প্রস্তাব পেয়েছেন এমপি আমির হামজা
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজা একটি ইফতার মাহফিল ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন, যেখানে তিনি প্রকাশ করেছেন যে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ রাখতে চাওয়া লোকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার ঘুষের প্রস্তাব পাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বলেন, ‘প্রায় সব মিলিয়ে শুধু মেডিক্যাল কলেজের জন্য ৫০ কোটি টাকার ওপরে অফার হয়েছে এই তিন দিনে। তা–ও কেউ জানবে না, শুধু আল্লাহ বাদে। আমি বলেছি, ৫০ কোটি কেন, ১০০ কোটি, পুরা কুষ্টিয়া লিখে দিলেও আমি আমার জায়গা থেকে একচুল নড়ব না।’
দায়িত্বে থাকাকালীন নীতির প্রতি অঙ্গীকার
আমির হামজা তাঁর এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এই পাঁচ বছর যদি দায়িত্বে থাকি, পাঁচটা টাকা যেন না বাড়ে, সেই রকমভাবে চলতে চাই।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে গত তিন দিন ধরে কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া এবং ভারত থেকে, এমনকি স্থানীয় এলাকার লোকজনও তাঁকে ঘুমাতে দিচ্ছেন না, কারণ তিনি কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
কলেজ পুনরায় চালুর সম্ভাবনা
তিনি বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) তিন ঘণ্টার বৈঠক ছিল ডিসিসহ দায়িত্বে থাকা মানুষদের সাথে এবং এটা (কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ) খোলাও সম্ভব। দুই বছর আগে খোলা সম্ভব ছিল। যারা দায়িত্বে ছিল, তারা এদিক–ওদিক করে এটা খুলতে পারে নাই এবং কেন পারে নাই, আমি এই তিন দিনে বুঝতেছি।’ আমির হামজা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাঁর আত্মীয়, দলীয় বা বিরোধী কেউ যদি তাঁর নামে অন্যায় কাজ করতে চান, তিনি তা জানতে পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তব্য
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুষ্টিয়া শহর শাখার সভাপতি লাকনুর রহমানের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চল টিম সদস্য খন্দকার এ কে এম আলী মুহসীন। অনুষ্ঠানের ভিডিও ক্লিপ গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অনেকেই ঘুষ দিতে চাওয়া লোকদের নাম প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
আমির হামজা তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ‘সব অন্যায়, হারাম কাজ বাদ দিয়ে অন্তত বৈধ পথে চলতে থাকেন। একটা মানুষের চলতে খুব বেশি লাগে না। এই যে আপনারা যারা শ্রমিক, অল্পতেই তুষ্ট হয়ে যান, অনেক আহামরি কিছু লাগে না। সুতরাং যাদের আহামরি কিছু লাগে, তারা এ জেলা থেকে, এ আসন থেকে বের হয়ে অন্য কোনো জায়গায় করবেন। আমরা চেষ্টা চালাব সঠিক থাকার।’
