ইসলামী আন্দোলনের নেতা নির্বাচনকে সাজানো ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ করলেন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সাজানো ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নির্বাচন বলে অভিযোগ করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে আলেম-ওলামা ও পেশাজীবীদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এমন অভিযোগ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি মো. লোকমান হাকিম।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তীব্র সমালোচনা
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, ‘আমরা একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশা করেছিলাম। কিন্তু তা হয়নি। দেশে একটি সাজানো এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নির্বাচন হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সারা দেশে হাতপাখার প্রার্থীদের পরিকল্পিতভাবে ভোটে হারানো হয়েছে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতা ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান
ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির ফয়জুল করীম আরও বলেন, দেশের মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছে এবং এই পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। নরসিংদীতে কিশোরীকে হত্যাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই অপরাধীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনুন। কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি সরকারকে সতর্ক করে দেন যে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সামাজিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকির আশঙ্কা
বাংলাদেশ ব্যাংকে একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিযুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যাঁকে গভর্নর পদে বসানো হয়েছে, তিনি একজন ব্যবসায়ী। ব্যাংকিং সেক্টরে তাঁর কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এমন একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে বসানোয় এই খাত ঝুঁকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা আছে। সরকারকে মনে রাখতে হবে ব্যাংকিং খাতে ধস নামলে তার ভুক্তভোগী হবে দেশের জনগণ।’ তিনি বর্তমান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ব্যাংকের টাকা এ দেশের জনগণের, বিএনপির না।’ এই মন্তব্যে তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি
ইফতার অনুষ্ঠানে বরিশালের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
