জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য ঐতিহাসিক 'লাল বাড়ি' বরাদ্দ
জামায়াত আমিরের জন্য ঐতিহাসিক 'লাল বাড়ি' বরাদ্দ

জামায়াত আমিরের জন্য ঐতিহাসিক 'লাল বাড়ি' বরাদ্দ: ২৫ বছর পর প্রথম ব্যবহার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ঐতিহাসিক ২৯ নম্বর বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এই বাসভবনটি তার জন্য নির্ধারণ করেছে, যা স্থানীয়ভাবে 'লাল বাড়ি' নামে পরিচিত।

বাড়িটির বর্তমান অবস্থা ও মেরামত কাজ

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অব্যবহৃত থাকায় এই বাসভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। বর্তমানে জোরেশোরে চলছে বাড়িটির মেরামত, সংস্কার ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বাড়িটির প্রায় ৯০% কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল রাস্তার অংশ এবং রঙের ফিনিশিং কাজ বাকি রয়েছে।

পূর্ত মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, বিরোধীদলীয় নেতার বসবাসের উপযোগী করতে তাদের আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে। আসবাবপত্র সরবরাহের বিষয়টি ভবিষ্যত বাসিন্দার চাহিদার ওপর নির্ভর করবে।

'লাল বাড়ি'-র ঐতিহাসিক গুরুত্ব

ব্রিটিশ আমলে প্রায় আড়াই একর জায়গার ওপর নির্মিত এই দোতলা লাল রঙের ভবনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে:

  • ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এই বাড়িতে উঠেছিলেন।
  • ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখানে নিয়মিত অফিস করেছেন।
  • এই সময়ে বাড়িটি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সরগরম থাকত এবং মানুষের যাতায়াতে প্রাণবন্ত ছিল।
  • ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোটের আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই বাড়ি।

২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া বাসাটি ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে গত ২৫ বছর ধরে এখানে কোনো বিরোধীদলীয় নেতা বসবাস করেননি।

জামায়াতের অবস্থান ও আনুষ্ঠানিকতা

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাড়িতে উঠার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। দলের একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, 'আমির বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন এবং তিনি শপথের পর ও আগে বলেছেন জামায়াত ইতিবাচক রাজনীতি করবে। যেহেতু বাড়িটি বিরোধীদলীয় নেতার জন্য বরাদ্দ, তাই সেখানে তিনি উঠতে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত দলীয়ভাবে বা আমিরের পক্ষ থেকে ওই বাড়িতে ওঠার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।'

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, 'সংসদ সচিবালয় বা সরকার নিয়ম অনুসারেই বিরোধীদলীয় নেতার জন্য ২৯ মিন্টো রোডের বাড়ি বরাদ্দ দিয়েছে। ওই বাড়িতে তিনি উঠবেন কিনা বা উঠলে কবে নাগাদ উঠবেন তা এখনো ঠিক হয়নি। সংসদ তো এখনো বসেনি। অধিবেশন শুরু হোক, তখন আমরা দলীয় নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে জানাব।'

বাড়ির অবস্থান ও পারিপার্শ্বিকতা

মন্ত্রিপাড়াখ্যাত মিন্টো রোডের এই বাসভবনের আশপাশে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তির বাসভবন অবস্থিত:

  1. মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বাসভবন
  2. বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)-এর বাসভবন
  3. ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবন
  4. ডিএমপি কমিশনারের বাসভবন
  5. একজন বিচারপতির বাসভবন
  6. একজন নির্বাচন কমিশনারের বাসভবন
  7. পররাষ্ট্র সচিবের বাসভবন
  8. প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর বাসভবন
  9. ঢাকা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বাসভবন

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলে মূলত সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এই বাসভবন তৈরি করা হয়েছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একসময় এটি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার জন্য নির্ধারণ করা হয়। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় বাসভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল, তবে বর্তমানে সংস্কার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।