অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা কোথায়? গণমাধ্যমের আড়ালে অধিকাংশ
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা কোথায়? গণমাধ্যমের আড়ালে

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বর্তমান অবস্থান: গণমাধ্যমের আড়ালে অধিকাংশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায়। ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট গঠিত এই সরকারের দায়িত্ব শেষে উপদেষ্টারা নিজ নিজ পেশা ও কর্মক্ষেত্রে ফিরতে শুরু করলেও বেশিরভাগই রয়েছেন গণমাধ্যমের আড়ালে। সরকারি বাসভবন ছেড়েছেন অনেকে, আবার কেউ কেউ এখনো আছেন সরকারি বাংলো বা অ্যাপার্টমেন্টে।

উপদেষ্টাদের সরকারি বাসভবন ছাড়ার প্রক্রিয়া

নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে উপদেষ্টাদের সরকারি বাসা ছাড়তে হয়; বিশেষ প্রয়োজনে দ্বিতীয় মাসে থাকতে হলে সরকারি ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। গণপূর্ত অধিদফতরের নথি বলছে, বেশিরভাগ উপদেষ্টা সরকারি বাসা ছেড়ে দিয়েছেন, বাকিরাও ছাড়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। তবে এখনো সরকারি বাসায় রয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান (মিন্টো রোড ৪ নম্বর)।

প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্যদের অবস্থান

দায়িত্ব শেষ হলেও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখনো যমুনাতেই অবস্থান করছেন। তবে তিনি ইতোমধ্যে যোগ দিয়েছেন ইউনূস সেন্টারে। আজ অথবা আগামীকাল যমুনা ছেড়ে গুলশানের নিজ বাসভবনে ফেরার কথা রয়েছে তার। নতুন সরকারের শপথের আগেই প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশ ছাড়েন। ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথের রাতেই সিঙ্গাপুরে যান প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা ছাড়েন বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজও।

অন্যান্য উপদেষ্টাদের বাসস্থান ও কর্মপরিকল্পনা

ইউনূস সরকারের আলোচিত উপদেষ্টাদের একজন আসিফ নজরুল ৩৫ হেয়ার রোডের সরকারি বাসা ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের পুরোনো বাসায় উঠেছেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশীদকে হেয়ার রোডের সরকারি বাসায় অবস্থান করতে দেখা গেছে। ৩৫ মিন্টো রোডে আছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। ৫ নম্বর মিন্টো রোডে রয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন। আর ৩৪ মিন্টো রোডে অবস্থান করছেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, ফরিদা আখতার, এম সাখাওয়াত হোসেন ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সরকারি বাসার সুবিধা নেননি; তারা ঢাকায় নিজ বাসাতেই ছিলেন। দায়িত্ব শেষের পর ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)-তে আবারও কাজ শুরু করেছেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এম সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনের সময় নোয়াখালীর হাতিয়ায় নেওয়া একটি প্রকল্প পরিদর্শনে তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতা পেয়েছেন। সামনে তিনি লেখালেখি ও শিক্ষকতায় ফিরবেন বলে জানান। সরকার পরিবর্তনের পর সাবেক উপদেষ্টাদের অবস্থান নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে—দু-একজন ছাড়া সবাই দেশেই আছেন। তবে অধিকাংশই গণমাধ্যম এড়িয়ে চলছেন, যা তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।