কুষ্টিয়ায় ‘উপরওয়ালা’ এখন আমি: সংসদ সদস্য আমির হামজার দৃঢ় ঘোষণা
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা বলেছেন, মেডিকেল ও সদর হাসপাতাল নিয়ে কিছু অভিযোগ রয়েছে এবং এগুলো পাল্টাতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কুষ্টিয়ায় এখন কোনো ‘উপরওয়ালা’ নেই, বরং তিনি নিজেই দায়িত্ব নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অভিযোগ দূরীকরণে প্রতিশ্রুতি
আমির হামজা বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করেছে এবং মাফ চেয়েছে। তারা দোষ চাপিয়েছে ‘উপরওয়ালাদের’ উপর, কিন্তু তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘উপরওয়ালা কুষ্টিয়ায় কেউ নেই, উপরওয়ালা এখন আমি।’ সুতরাং, যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগ সরাসরি তাকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
স্প্রিড মানি ও কালো হাতের বিরুদ্ধে সতর্কতা
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন স্প্রিড মানির কথা বলা হয় এবং কিছু কালো হাত সক্রিয় রয়েছে। গোপনে কেউ কেউ এই হাতগুলোর কথা জানিয়েছে। আমির হামজা সরাসরি বলেছেন, ‘দুই নাম্বারি যদি কেউ করতে চায়, সরাসরি বলবেন যে, মাওলানার কাছে টাকা দেওয়া আছে। আপনারা তার কাছে যান।’ তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, কুষ্টিয়ায় কে এত ক্ষমতা নিয়ে চলে তা তিনি দেখবেন এবং বন্ধ করবেন।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুনরায় চালুর উদ্যোগ
আমির হামজা বলেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল তাদের আবেগের জায়গা। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরায় চালু করতে চান তারা। বর্তমানে কয়েকটি বিভাগ চালু আছে, এবং সম্পূর্ণ চালু করার লক্ষ্যে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জানান, দীর্ঘ প্রায় দুই আড়াই ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে এবং কয়েকটি বিষয়ে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আশা প্রকাশ করেন, আগামী কিছুদিনের ভেতরে অন্তত একটি সুখবর শোনা যাবে। তিনি বলেন, ‘সুখবর জানতে পারবেন। এটা শুনলে আপনাদের আনন্দ হবে।’ আজকের সভায় দুইটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ। সামনে সাত-আটটি বিষয় বাকি রয়েছে, এবং ইনশাআল্লাহ সেগুলোও সমাধান হবে।
সভায় অন্যান্য বক্তারা
সভায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন এবং কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শহিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন। তাদের উপস্থিতি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।
মুফতি আমির হামজার এই ঘোষণা কুষ্টিয়ার স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা এখন তার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।
