বরগুনায় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ট্রলারের ইঞ্জিন চুরির অভিযোগ, পুলিশি তদন্ত চলছে
বরগুনায় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ইঞ্জিন চুরির অভিযোগ

বরগুনায় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ট্রলারের ইঞ্জিন চুরির অভিযোগ

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলারের একটি মূল্যবান ইঞ্জিন চুরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জসীম উদ্দীন মৃধার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে পাথরঘাটা পৌরশহরের ৬নং ওয়ার্ডের তালতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইঞ্জিন জব্দ ও বিক্রির ঘটনা

অভিযোগ অনুযায়ী, সাড়ে ৪ লাখ টাকা মূল্যের ইঞ্জিনটি একটি ভাঙ্গারি দোকান থেকে মাত্র ১১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। ইঞ্জিনের মালিক আলমগীর খলিফা জানান, তিনি বেশ কিছুদিন আগে তার ট্রলারের জন্য দুটি ইঞ্জিন কিনেছিলেন। একটি ইঞ্জিন মাছধরার ট্রলারে বসানো হয়েছে, অন্যটি ছোট হওয়ায় সংরক্ষিত ছিল।

বুধবার সকালে তার এক কর্মচারী ফোন করে জানান, সংরক্ষিত ইঞ্জিনটি হারিয়ে গেছে। এ খবর পাওয়ার পর আলমগীর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তালতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি ভাঙ্গারি দোকানে গিয়ে ইঞ্জিনটি শনাক্ত করেন। সেখান থেকে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, জসীম উদ্দীন মৃধা ইঞ্জিনটি বিক্রি করে টাকা নিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযুক্তের বক্তব্য ও পুলিশি পদক্ষেপ

অভিযুক্ত জসীম উদ্দীন মৃধা চরদুয়ানী ইউনিয়নের দক্ষিণ জ্ঞানপাড়া গ্রামের সালাম মৃধার ছেলে। তিনি দাবি করেন, "আমার এলাকার ছোট ভাইয়েরা একটি ইঞ্জিন নিয়ে বাজারে বিক্রি করেছে। তারা ছোট হওয়ায় দোকানদাররা তাদের কাছ থেকে মেশিন কিনতে চাচ্ছিল না। পরে আমি বিক্রি করে দিয়েছি। ওই মেশিন একটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। আমার বিরুদ্ধে যে চুরির কথা বলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য কেউ এ কাজ করছে।"

পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহেদ চৌধুরী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়েছে। ভুক্তভোগীকে মামলা দায়ের করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চুরির সময় ও স্থান

আলমগীর খলিফার মতে, মঙ্গলবার রাতের কোনো একসময় উপজেলার চরদুয়ানি ইউনিয়নের খলিফারহাট বাজার থেকে জসীম উদ্দীন ও তার সহযোগীরা ইঞ্জিনটি চুরি করে নিয়ে আসে। ইঞ্জিনটি পরে ভাঙ্গারি দোকানে বিক্রি করা হয়, যা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। সম্প্রতি বরগুনা জেলায় এ ধরনের চুরির ঘটনা বাড়তে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাচ্ছেন।