পঞ্চগড়ে ছাত্রশিবির নেতাকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকায় ফেসবুক পোস্ট ও মেসেঞ্জার বাগবিতণ্ডার জেরে ছাত্রশিবির নেতা ফজলে রাব্বী স্থানীয় লোকজনের তোপের মুখে পড়েছেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে এবং ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও উত্তেজনা বৃদ্ধি
ফজলে রাব্বী পঞ্চগড় জেলা ছাত্রশিবিরের ছাত্র অধিকার সম্পাদক এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক। তিনি হাড়িভাসা ইউনিয়নের হালুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য ও মেসেঞ্জারে হুমকির অভিযোগ এনে তিনি সন্ধ্যার পর কামারপাড়া এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুর রউফের বাড়ির সামনে যান। সেখানে ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, ‘আব্দুর রউফের ভাই আমাকে হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়েছে, আমি ওর বাসার সামনে এসেছি। আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না।’ তিনি প্রশাসনের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টারও অভিযোগ তোলেন।
জনসমাগম ও পুলিশের হস্তক্ষেপ
ধীরে ধীরে সেখানে স্থানীয় লোকজন, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে ফজলে রাব্বীর সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। তাকে নিরাপদে রাখতে স্থানীয় কয়েকজন পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যান। এ সময় লোকজন তাকে ঘিরে ‘মব সৃষ্টি’ করার অভিযোগ তুলে স্লোগান দিতে থাকেন। পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফজলে রাব্বীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইনের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
উভয় পক্ষের বক্তব্য ও মামলার প্রস্তুতি
ফজলে রাব্বী জানান, তিনি ফেসবুকে বইমেলার ছবি পোস্ট করলে মো. রব্বানী তাকে কামারপাড়া আসার হুমকি দেন এবং মেসেঞ্জারে তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখান। এ জন্যই তিনি সেখানে যান এবং পরে পুলিশকে জানান। তিনি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে, ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুর রউফ দাবি করেন, ফজলে রাব্বী তাকে হেয় করতে ফেসবুকে পোস্ট করে হয়রানি করেছেন, যা নিয়ে তার ভাইয়ের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। তিনি বলেন, ফজলে রাব্বী তাদের বাড়ির সামনে গিয়ে হুমকি দেন এবং তারাও মামলা করার পরিকল্পনা করছেন।
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থা
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ফজলে রাব্বীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। পরে তাঁকে জামায়াতে ইসলামীর নেতার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। রব্বানীর পরিবার এজাহার নিয়ে এলেও সংশোধন করতে নিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি।’ এলাকায় উত্তেজনা এখনো রয়ে গেছে এবং উভয় পক্ষ আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে।
